২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফায় যখন বাংলার বুথে বুথে মানুষের ঢল নেমেছে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বুধবার দুপুরে ভোটগ্রহণ চলাকালীনই প্রধানমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘোষণা করলেন— পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপির ‘ঐতিহাসিক জয়’ হতে চলেছে। কেবল বাংলা নয়, পাঁচ রাজ্যের ভোটেই বিজেপি জয়ের হ্যাটট্রিক করবে বলে দাবি তাঁর।
কেন মোদীর এই ভবিষ্যদ্বাণী? প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলার ভোটারদের সাহস এবং সচেতনতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে:
ভয়মুক্ত পরিবেশ: দীর্ঘ কয়েক দশক পর মানুষ যে কোনও রকম ভয়ভীতি বা বাইরের চাপ ছাড়াই বুথমুখী হচ্ছেন, তাকেই ‘উন্নত গণতন্ত্রের প্রতীক’ হিসেবে দেখছেন তিনি।
ভোটের রেকর্ড হার: প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও বিপুল সংখ্যক মানুষের ভোটদান বিজেপির পক্ষেই যাবে বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির।
বিকাশের গতি: মোদীর দাবি, ৪ মে-র ফলাফল দেশের তথা রাজ্যের উন্নয়নের সংকল্পকে আরও মজবুত করবে।
বিগত রেকর্ড ভাঙার ডাক: বিহারের নির্বাচন বা গুজরাটের স্থানীয় নির্বাচনের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিগত কয়েক দশকে যা মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি, এবার সেটাই বাস্তবে হতে চলেছে।” তাঁর মতে, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিই বলে দিচ্ছে যে বাংলার মহান জনতা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে কতটা সজাগ।
বাংলার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা: ভোট শেষ হওয়ার আগেই বাংলার মানুষের উৎসাহ দেখে তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মোদী। তিনি বলেন, “আমি পশ্চিমবঙ্গের মহান জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁরা বিপুল সংখ্যায় ভোটদান করছেন, যা দেশের বিকাশে নতুন শক্তি যোগাবে।”
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড়: ভোট চলাকালীন প্রধানমন্ত্রীর এই ‘জয়ের হ্যাটট্রিক’ এবং ‘ঐতিহাসিক জয়’-এর দাবি রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধীরা একে ‘মনস্তাত্ত্বিক খেলা’ হিসেবে দেখলেও, বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে এই বার্তা নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ৪ মে-র বাক্সবন্দি ফলাফলই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে প্রধানমন্ত্রীর এই ভবিষ্যদ্বাণী কতটা সফল হয়।





