বিশ্বজুড়ে আলোড়ন ফেলা ‘এপস্টিন ফাইল’ বিতর্ক এবার আছড়ে পড়ল কবিগুরুর শান্তিনিকেতনে। ওই বিতর্কিত নথিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম থাকার অভিযোগে উত্তাল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আচার্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগেই তাঁর ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছে বাম ও ঘাসফুল শিবিরের ছাত্র সংগঠনগুলি।
জেফ্রি এপস্টিন—আমেরিকার এই প্রয়াত কোটিপতির নাম জড়িয়ে রয়েছে একাধিক যৌন কেলেঙ্কারি ও মানবপাচারের ঘটনায়। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা এক নথিতে দেখা গিয়েছে, ইজরায়েলের সঙ্গে মোদির বৈঠক করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে একটি ইমেল চালাচালি হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসতেই আসরে নেমেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (TMCP) ও এসএফআই (SFI)। তাদের দাবি, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য পদে মোদির মতো কারোর থাকা শোভা পায় না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিমা নষ্ট হচ্ছে।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বীরভূম জেলা সহ-সভাপতি মান্তু চক্রবর্তী ও এসএফআই সদস্য অয়ন লাহা সাফ জানিয়েছেন, “এপস্টিন ফাইলের মতো জঘন্য জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর নাম থাকা লজ্জাজনক। বিশ্বভারতীর সঙ্গে বিশ্ববরেণ্যদের নাম যুক্ত, সেখানে এমন কলঙ্কিত অধ্যায় মেনে নেওয়া যায় না।” অন্যদিকে, বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল এই অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীকে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে। উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে সমাবর্তনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এখন দেখার, সমাবর্তনের দিন বিক্ষোভের আগুনে শান্তিনিকেতন তপ্ত হয়ে ওঠে কি না।