মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট-ইউজি’ (NEET-UG) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র ভূমিকা নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল দেশ। লক্ষ লক্ষ ডাক্তারি পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ এবং মৌলিক অধিকার যেভাবে বারবার সংকটের মুখে পড়ছে, তা নিয়ে সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একাধিক মামলার শুনানি হয়। সেই শুনানিতেই এনটিএ-কে সরিয়ে নিট পরিচালনার দায়িত্ব কোনো স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে কেন্দ্র, সিবিআই এবং এনটিএ-র কাছ থেকে লিখিত জবাব তলব করলেন বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি আলোক আরাধের ডিভিশন বেঞ্চ।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও অসন্তোষ:
শুনানির সময় বিচারপতিরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, আগের বিতর্কগুলো থেকে এনটিএ কোনো শিক্ষাই নেয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আদালত শুধু পরীক্ষা নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি, বরং আগের নির্দেশ মেনে যে কাঠামোগত সংস্কারের কথা ছিল, তা কেন আজও কার্যকর হল না, সেই বিষয়টিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, গতবারের ঘটনার পর আদালতের নির্দেশে যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং যে সমস্ত সুপারিশ গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নে কেন ঢিলেমি করা হলো? এই ব্যর্থতার কারণেই বারবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে বলে আদালত অভিমত প্রকাশ করেছে।
কঠিন নির্দেশের মুখে এনটিএ:
আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এনটিএ-কে একটি বিস্তারিত হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। সেখানে এনটিএ-কে স্পষ্ট করতে হবে যে, পূর্বতন আদালতের নির্দেশ এবং নজরদারি কমিটির সুপারিশগুলো তারা ঠিক কতটা পালন করেছে। একই সঙ্গে, ইসরোর প্রাক্তন প্রধান ড. কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটির বর্তমান স্থিতি এবং তাদের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের বিষয়েও আদালত জবাব চেয়েছে। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে, আদালতের নির্দেশাবলী যে কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ:
পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ফেরাতে নিট পরীক্ষাকে পুরোপুরি কম্পিউটার-ভিত্তিক (CBT) করার মতো একাধিক দাবিও মামলাকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সবকটি আবেদন খতিয়ে দেখে আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আগামী ২৯ মে। দেশজুড়ে মেডিকেল পড়ুয়াদের মধ্যে যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের এই পদক্ষেপ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সরকার ও এনটিএ-র দেওয়া উত্তরের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী ক্ষেত্রে কোনো বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে আদালত।





