জলপাইগুড়ি জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনীকে (বিএসএফ) ২৭ কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করার পর থেকেই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রক্রিয়াটি গতি পেয়েছে। আজ থেকে সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে, যা সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা মানচিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরেজমিনে প্রাপ্ত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া বসানোর কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। দীর্ঘদিনের বকেয়া এই জমি হস্তান্তরের পরেই বিএসএফ কর্মকর্তারা দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেন। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে নজরদারি বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
এলাকার বাসিন্দারা এই কাজ শুরু হওয়ায় চরম স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। বহু বছর ধরে সীমান্তবাসী যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন, এই বেড়া নির্মাণের মাধ্যমে তার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তারা মনে করছেন। স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “এটি এমন একটি এলাকা ছিল যেখানে আগে ন্যূনতম কোনো নিরাপত্তা ছিল না। এখানে গরু পালন করাও ছিল কার্যত অসম্ভব, কারণ তাতে সবসময় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের হামলার ভয় থাকত। পশ্চিমবঙ্গ তথা গোটা দেশের নিরাপত্তার খাতিরে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ছিল।”
অন্য একজন গ্রামবাসী আবেগের সঙ্গে বলেন, “আমরা বছরের পর বছর ধরে বেড়ার জন্য আবেদন জানিয়ে আসছিলাম, কিন্তু আগের সরকার তা নিয়ে কোনো পদক্ষেপই করেনি। আজ দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিএসএফকে কাজ করার সুযোগ দেওয়ায় আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। আজ আমাদের মনে হচ্ছে আমরা স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারছি। এখন থেকে আমরা অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারব।” আরও এক বাসিন্দা এই প্রকল্পকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা’র স্বার্থে এক অভাবনীয় জয় বলে বর্ণনা করেছেন।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী হাওড়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া বাঁধার জন্য ২৭ কিলোমিটার জমি এবং বিএসএফ-এর বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জমি হস্তান্তর করার প্রক্রিয়াটি প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই চূড়ান্ত করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের অসহযোগিতার কারণেই এতদিন সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত ছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই কাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ জমি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে হস্তান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফাঁসিদেওয়ার মতো স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে তা শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে না, বরং সামগ্রিকভাবে জাতীয় নিরাপত্তার সুরক্ষা কবচকে আরও মজবুত করবে। স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ কেবল একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং তাদের জন্য নতুন এক জীবনের সূচনা।





