দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের (LPG) জোগান নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছেই না। বুধবার (১৮ মার্চ, ২০২৬) এক আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক বৈঠকে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দেশে এলপিজি সরবরাহের পরিস্থিতি “এখনও উদ্বেগজনক” (Still Worrisome)। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি বাধা পাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সুজাতা শর্মার ব্রিফিংয়ের ৫টি প্রধান পয়েন্ট:
১. অনলাইন বুকিংয়ে উন্নতি: সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রায় ৯৪ শতাংশ গ্রাহক অনলাইনে গ্যাস বুক করছেন। ডিজিটাল পেমেন্ট ও ‘ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড’ (DAC) ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে যাতে কালোবাজারি বন্ধ করা যায়। ২. লাইন কমছে না কেন? সরকার স্বীকার করেছে যে, বুকিং বাড়লেও ডিস্ট্রিবিউটরদের সামনে এখনও দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, কোনো ডিস্ট্রিবিউটরের কাছেই ‘ড্রাই-আউট’ (মজুত শূন্য) পরিস্থিতি নেই। ৩. উৎপাদন বৃদ্ধি: সঙ্কট মোকাবিলায় দেশীয় রিফাইনারিগুলোতে এলপিজি উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। পেট্রোকেমিক্যাল খাতে ব্যবহার করা প্রোপেন ও বিউটেন গ্যাসকেও এখন রান্নার গ্যাসের পুলে ডাইভার্ট করা হচ্ছে। ৪. আতঙ্কিত হয়ে বুকিং করবেন না: কেন্দ্রীয় আধিকারিকের আবেদন— “দয়া করে প্যানিক বুকিং করবেন না। প্রয়োজন থাকলেই তবেই বুক করুন।” সরকারের দাবি, মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত বুকিং করার ফলেই ডেলিভারিতে দেরি হচ্ছে। ৫. পিএনজি (PNG)-তে সরার পরামর্শ: শহর এলাকায় যাদের বাড়িতে পাইপলাইনের গ্যাস (PNG) নেওয়ার সুযোগ আছে, তাঁদের অবিলম্বে এলপিজি ছেড়ে পিএনজি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।
কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা: সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, গত কয়েক দিনে দেশজুড়ে প্রায় ১২,০০০ রেইড চালানো হয়েছে এবং প্রায় ১৫,০০০ অবৈধ সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও কেরালায় কালোবাজারির অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে।