মাঠের লড়াই আর জীবনের লড়াই— দুই ক্ষেত্রেই তিনি অপরাজেয়। ২০২০ সালে রাজ্য সরকারের কাছ থেকে ‘খেল সম্মান’ পাওয়া প্রতিভাবান অ্যাথলিট মধু কুমারী এখন এক অনন্য যুদ্ধের মুখোমুখি। একদিকে মাতৃত্বের দায়িত্ব, আর অন্যদিকে দেশের জার্সিতে এশিয়াডে ফের প্রতিনিধিত্ব করার লালিত স্বপ্ন। তাঁর এই অদম্য জেদ আর লড়াইয়ের গল্প উঠে এল ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি সঞ্জয় অধিকারীর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়।
একজন নারী অ্যাথলিটের কাছে মা হওয়ার পর ফের ট্র্যাকে ফেরা কতটা কঠিন, তা আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মধু। শারীরিক ধকল আর দীর্ঘ বিরতির পর পেশির নমনীয়তা ফিরে পাওয়া সহজ নয়। কিন্তু মধুর লক্ষ্য স্থির। সন্তানকে আগলে রেখেই তিনি শুরু করেছেন কঠোর অনুশীলন। তিনি বিশ্বাস করেন, মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং এক নতুন শক্তি। জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তনের জন্য তিনি এখন দিনরাত এক করে ঘাম ঝরাচ্ছেন, যাতে আরও একবার দেশের হয়ে এশিয়ান গেমসে পদক জিততে পারেন।
মধুর এই লড়াই কেবল নিজের জন্য নয়, বরং সমাজের সেই সব মেয়েদের জন্য যারা বিয়ের পর বা মা হওয়ার পর খেলাধুলা ছেড়ে দেন। রাজ্য সরকারের সহযোগিতা এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সম্বল করে মধু প্রমাণ করতে চান যে, ইচ্ছের ডানা থাকলে আকাশ ছোঁয়া অসম্ভব নয়। ট্র্যাকে তাঁর ফেরার প্রতীক্ষায় এখন গোটা বাংলা। মধুর এই ‘নয়া লড়াই’ শুধু খেলার মাঠের নয়, বরং এক মায়ের হার না মানা সংগ্রামের আখ্যান।