পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন একের পর এক হাড়হিম করা জালিয়াতির হদিশ পাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। খসড়া তালিকায় একদিকে যেমন বাংলাদেশি নাগরিকদের নাম পাওয়া যাচ্ছে, তেমনই ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ খতিয়ে দেখতে গিয়ে উঠে এসেছে অবাস্তব সব তথ্য। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ভোটার মঞ্জুরানি সাহার নাম পাওয়া গিয়েছে বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের ভোটার তালিকায়। দুই দেশেই নাগরিকত্বের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন।
এক বাবার শত শত সন্তান! নির্বাচন কমিশনের মাইক্রো অবজার্ভাররা সুপার চেকিংয়ের সময় দেখেছেন, বীরভূমের নানুরে এক ব্যক্তিকে ৩৮৯ জন মানুষ তাদের ‘বাবা’ বলে পরিচয় দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয়, হাওড়ার সাঁকরাইলে এক বাবার ৩১০ জন সন্তান, মুর্শিদাবাদে ১৯৯ জন এবং আসানসোলে ১৭০ জন সন্তানের হদিশ মিলেছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে প্রায় ২ লক্ষ ২৬ হাজার মানুষের ৬টির বেশি সন্তান রয়েছে এবং ৮,৬৮২ জন দাবি করেছেন তাঁদের ১০টির বেশি সন্তান রয়েছে। এই অদ্ভুত তথ্যগুলো আসলে জাল নথির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম তোলার একটি বড়সড় কৌশল বলেই মনে করছেন আধিকারিকরা।
কীভাবে চলছে বাংলাদেশি শনাক্তকরণ? কমিশন সূত্রে খবর, যারা চিকিৎসা, ব্যবসা বা পড়াশোনার অজুহাতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে এ দেশে এসে আর ফিরে যাননি, তাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। দালালদের মাধ্যমে জাল ভারতীয় নথি তৈরি করে এরা ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এই জালিয়াতি রুখতে প্রতিদিন ফরেনার রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (FRRO)-এর কাছে সন্দেহভাজনদের নামের তালিকা পাঠাচ্ছে কমিশন। এই ভিনদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে চিরতরে বাদ দিতে এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে।