২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগেই রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে। একদিকে বিভিন্ন এক্সিট পোল যখন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তখন তৃণমূল ভবন থেকে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতারা দাবি করলেন, এক্সিট পোলের সমস্ত পূর্বাভাস ভুল প্রমাণিত হবে এবং বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ফের বাংলায় ফিরছে ঘাসফুল সরকার।
আসন সংখ্যা নিয়ে বড় দাবি: তৃণমূলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বিরোধীরা যতই স্বপ্ন দেখুক না কেন, শেষ হাসি হাসবে মমতাই। দলের শীর্ষ নেতাদের দাবি:
মোট আসন: তৃণমূল কংগ্রেস এবারও ২০০-র বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে।
বাংলার বার্তা: মানুষের উন্নয়ন এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর ওপর ভিত্তি করে বাংলার মানুষ ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরই ভরসা রেখেছে।
ভবানীপুরের লড়াই ও জয়ের ব্যবধান: হাইপ্রোফাইল কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে তৃণমূলের দাবি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে রেকর্ড সংখ্যক ভোটের ব্যবধানে জিতবেন। তৃণমূলের হিসেবে, এই ব্যবধান গত উপ-নির্বাচন বা গত বিধানসভার জয়কেও ছাপিয়ে যেতে পারে।
কেন এই আত্মবিশ্বাস? তৃণমূল নেতৃত্বের যুক্তি হলো, এক্সিট পোল করা হয় একটি নির্দিষ্ট অংশের ওপর ভিত্তি করে, কিন্তু মা-মাটি-মানুষের প্রকৃত জনমত ইভিএম-এ বন্দি রয়েছে। তাঁদের দাবি, বিশেষ করে মহিলা ভোট এবং গ্রামীণ বাংলায় ঘাসফুল ঝড়ের সামনে বিজেপি খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে।
বিরোধীদের কটাক্ষ: তৃণমূলের এই সাংবাদিক বৈঠককে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, “হার নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল এখন কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে কাল্পনিক সংখ্যা বলছে।”
আগামী দোসরা মে ইভিএম খুললেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, তৃণমূলের এই দাবির জোর কতটা আর এক্সিট পোলের ভবিষ্যৎবাণীই বা কতটুকু ফলে। তবে রেজাল্টের আগে তৃণমূলের এই ‘কনফিডেন্স’ রাজনৈতিক মহলে নতুন জল্পনা উসকে দিল।





