প্রকৃতি মাঝে মাঝে এমন কিছু রহস্য মানুষের সামনে নিয়ে আসে যা দেখে খোদ বিজ্ঞানীরাও স্তম্ভিত হয়ে যান। সম্প্রতি কেরলের সাইলেন্ট ভ্যালি ন্যাশনাল পার্কে এমনই এক বিস্ময়কর ঘটনার সাক্ষী থাকলেন প্রাণীবিজ্ঞানীরা। সেখানে সন্ধান পাওয়া গেছে এমন এক বিরল প্রজাতির কাঁকড়ার, যার অর্ধেক শরীর পুরুষের মতো এবং বাকি অর্ধেক শরীর নারীর মতো। পুরাণের ‘অর্ধনারীশ্বর’ রূপের সঙ্গে মিল রেখে এই কাঁকড়াটি এখন নেটদুনিয়ায় এবং বিজ্ঞানী মহলে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি জৈবিক অবস্থা, যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘গাইনান্ড্রোমরফিজম’ (Gynandromorphism)। সাধারণত এই ধরনের কাঁকড়া বা প্রাণীদের ক্ষেত্রে শরীরের একদিকে পুরুষ বৈশিষ্ট্যের জনন অঙ্গ ও বহিরাবরণ থাকে এবং অন্যদিকে স্ত্রী বৈশিষ্ট্যের গঠন লক্ষ্য করা যায়। সাইলেন্ট ভ্যালিতে পাওয়া এই কাঁকড়াটির ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, এর শরীরের ডান এবং বাম ভাগ সম্পূর্ণ আলাদা লিঙ্গীয় বৈশিষ্ট্য বহন করছে।
সাধারণত কাঁকড়ার পেটের নিচের অংশ বা ‘অ্যাবডোমেন’ দেখে তাদের লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয়। পুরুষ কাঁকড়ার ক্ষেত্রে এই অংশটি সরু হয়, আর স্ত্রী কাঁকড়ার ক্ষেত্রে তা প্রশস্ত হয়। কিন্তু এই বিশেষ কাঁকড়াটির ক্ষেত্রে একদিক সরু এবং অন্যদিক প্রশস্ত, যা দেখে গবেষকরা প্রথমবার চমকে ওঠেন। ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা তার জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত, কিন্তু এই ধরনের বিরল ঘটনা সচরাচর নজরে পড়ে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রূণ গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে কোষ বিভাজনের সময় কোনো ত্রুটির কারণে এই ধরনের অদ্ভুত শারীরিক গঠন তৈরি হয়। এটি কোনো নতুন প্রজাতি নয়, বরং একটি বিরল জেনেটিক মিউটেশন। তবে পরিবেশ দূষণ নাকি অন্য কোনো প্রাকৃতিক কারণ এর পেছনে দায়ী, তা নিয়ে গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা। সাইলেন্ট ভ্যালির এই বিরল ‘অর্ধনারীশ্বর’ কাঁকড়া এখন জীববিজ্ঞানের গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।