বাংলাদেশের ইতিহাসে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব নজির। এই প্রথমবার কোনো পেশাদার আমলা বা অর্থনীতিবিদ নন, বরং সরাসরি ব্যবসায়িক জগৎ থেকে উঠে আসা এক ব্যক্তিত্ব বসলেন বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নরের চেয়ারে। ৫৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের শীর্ষ পদে এমন নিয়োগ ঘিরে গোটা দেশের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সাধারণত বাংলাদেশ ব্যাঙ্কের গভর্নর পদে প্রাক্তন অর্থ সচিব বা অভিজ্ঞ অর্থনীতিবিদদেরই বসতে দেখা যায়। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই প্রথা ভেঙে দক্ষ এবং সফল এক ব্যবসায়ীকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, দেশের টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টরে শৃঙ্খলা ফেরাতে একজন বাস্তববাদী ব্যবসায়ীর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে সরকার।
নতুন গভর্নরের নাম ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক এবং জল্পনা। সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এতে স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, একজন ব্যবসায়ীই ভালো বুঝবেন বাজারের তারল্য সংকট এবং ঋণের প্রকৃত সমস্যা। এখন দেখার, ব্যাঙ্কিং সংস্কারের এই কঠিন পরীক্ষায় নতুন গভর্নর কতটা সফল হন এবং আমলাতন্ত্রের বাইরে গিয়ে তিনি কীভাবে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করেন।