ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনার আবহে ইরান এখন সাইবার এবং অপতথ্য প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নতুন মাত্রায় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি হ্যাকাররা জেমিনি ও চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল ব্যবহার করে হিব্রু ও আরবি ভাষায় ম্যালওয়্যার ও ফিশিং বার্তা তৈরি করছে। লক্ষ্যবস্তুর বিশ্বাস অর্জনে তারা এআই-নির্মিত ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করছে, যার কবলে পড়ছে ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশ।
গুগল এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলো ইরানের সাইবার গোষ্ঠী ‘APT42’-এর ওপর বিশেষ নজর রাখছে। এই গোষ্ঠীটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের খুঁটিনাটি গবেষণার জন্য এআই সিস্টেমকে কাজে লাগাচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধু সাইবার অপরাধেই নয়, ইরান এখন সামরিক ক্ষেত্রেও এআই-এর ব্যবহার বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তাদের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং পানির নিচের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ব্যবস্থায় এআই যুক্ত করা হয়েছে, যা তাদের ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং নেভিগেশনে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। পশ্চিমা সামরিক গবেষণাপত্র দ্রুত অনুবাদ ও বিশ্লেষণের কাজেও ইরান এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। এআই-এর এই অপব্যবহার মোকাবিলায় প্রযুক্তি সংস্থাগুলো সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট বন্ধের মতো পদক্ষেপ নিলেও, যুদ্ধের এই নতুন প্রযুক্তিগত রূপ এখন বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





