বসন্তের আগমন মানেই কি কেবল পলাশ আর কোকিলের ডাক? চিকিৎসকরা বলছেন, এই সময়টা আসলে অসুখবিসুখেরও ‘মরসুম’। শীত বিদায় নিচ্ছে আর গরম উঁকি দিচ্ছে— আবহাওয়ার এই খামখেয়ালি রূপের কারণেই বর্তমানে ঘরে ঘরে বাড়ছে সর্দি, কাশি এবং জ্বরের দাপট। শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও সমানভাবে এই ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ে বায়ুমণ্ডলে ধূলিকণা এবং ফুলের পরাগরেণু বেশি থাকে, যা অ্যালার্জি এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া দিনের বেলা রোদের তাপ এবং রাতে হালকা শিরশিরানি— তাপমাত্রার এই বিশাল তারতম্যের সঙ্গে শরীর মানিয়ে নিতে পারে না। ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউনিটি সাময়িকভাবে কমে যায়, যা ভাইরাসের বংশবিস্তারের আদর্শ সময়। এর ফলেই সর্দি-কাশি ও ভাইরাল ফিভার মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
চিকিৎসকরা সাবধান করে বলছেন, সামান্য জ্বর বা কাশিকে অবহেলা করা চলবে না। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে জল পান করা, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং ভিড়ের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা। যদি জ্বর তিন দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বসন্তের আনন্দ উপভোগ করতে শরীরকে সুস্থ রাখাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।