রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল রবিবার শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দরে অবতরণের পরই তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন। নিয়োগ দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং প্রশাসনিক গাফিলতি—এই তিন প্রধান ইস্যুতে প্রাক্তন শাসকদলকে তুলোধোনা করলেন তিনি। মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, এখন আর উৎসবের সরকার নয়, বরং উন্নয়নের সরকার কাজ করতে এসেছে।
তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘চোর’ স্লোগান প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “তৃণমূল নেতারা তোলাবাজি ও লুঠপাটে মত্ত। মানুষ আজ তাদের প্রকৃত চরিত্র চিনতে পেরেছে, তাই স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এমন স্লোগান তুলছে।” নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি ঘোষণা করেন, পুরসভার প্রতিটি নিয়োগ প্রক্রিয়া সরকার কঠোরভাবে খতিয়ে দেখবে। নিয়োগে কোনো অনিয়ম থাকলে তা বরদাস্ত করা হবে না।
সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়েও এদিন বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “মাদ্রাসার পরিকাঠামোর জন্য সরকার ৫,৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি করছে। কিন্তু সেই বিপুল পরিমাণ অর্থ বাস্তবে কতজন পড়ুয়া পাচ্ছেন এবং কোথায় খরচ হচ্ছে, তা অডিট করা প্রয়োজন।” অগ্নিমিত্রা পাল আরও জোর দিয়ে বলেন, ধর্মের ভিত্তিতে কোনো সম্প্রদায়কে ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ হিসেবে ব্যবহার করা তৃণমূলের অভ্যেস। তিনি দাবি করেন, মুসলিম বা পার্সি—সব সম্প্রদায়ের মানুষই সমান শিক্ষা ও চাকরির অধিকারী।
উত্তরবঙ্গকে দীর্ঘদিন তৃণমূল সরকার বঞ্চিত করে রেখেছে বলে অভিযোগ তুলে মন্ত্রী বলেন, “এতদিন কেবল উৎসবেই ব্যস্ত ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। অথচ চিংড়িঘাটার মতো দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা কাজ আমাদের সরকার আসার পর দ্রুত শেষ করা হয়েছে।” পাহাড় ও সমতলের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক অর্পিত দায়িত্বের কথা উল্লেখ করেন। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং মহিলা সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে তিনি প্রাথমিক লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও মিরিকের পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদদের দল ছাড়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “যাদের কোনো আদর্শ নেই, সেই দল টুকরো টুকরো হবেই। এতে আমাদের গুরুত্ব নেই।” বিএসএফ-এর জমি সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে তিনি বর্তমান রাজ্য সরকারকে নিশানা করে বলেন, বিএসএফ-কে জমি না দিয়ে সরকার উন্নয়নের কাজে বাধা সৃষ্টি করছে। পরিশেষে, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন গড়াই বর্তমান সরকারের একমাত্র লক্ষ্য বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।





