দেবভূমি উত্তরাখণ্ডে বড়সড় নাশকতার ছক বানচাল করে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামির কড়া নির্দেশে চলা ‘অপারেশন প্রহার’-এ মিলেছে মেগা সাফল্য। রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে এক দুর্ধর্ষ পাকিস্তানি হ্যান্ডলারকে, যে দীর্ঘ সময় ধরে এই রাজ্যে বসে নাশকতার জাল বুনছিল।
কী এই ‘অপারেশন প্রহার’?
উত্তরাখণ্ডকে দুষ্কৃতী ও জঙ্গি মুক্ত করতে মুখ্যমন্ত্রী ধামির বিশেষ নির্দেশে শুরু হয়েছে ‘অপারেশন প্রহার’। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো রাজ্যের লুকিয়ে থাকা বিদেশি চর, ড্রাগ মাফিয়া এবং অসামাজিক মৌলবাদী শক্তিকে নির্মূল করা। এই অভিযানের অংশ হিসেবেই গত কয়েকদিন ধরে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা ও গোপন ডেরাগুলিতে নজরদারি বাড়ায় পুলিশ।
কীভাবে জালে এল পাক হ্যান্ডলার?
গোপন সূত্রে খবর ছিল যে, এক ব্যক্তি বিদেশের নম্বর ব্যবহার করে সীমান্তের ওপাড়ে ক্রমাগত সংবেদনশীল তথ্য পাচার করছে। সেই সূত্র ধরে ডিজিটাল ট্র্যাকিং শুরু করেন গোয়েন্দারা। এরপরই দেহরাদুনের এক গোপন আস্তানা থেকে ওই পাকিস্তানি হ্যান্ডলারকে পাকড়াও করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে একাধিক জাল পাসপোর্ট, সিম কার্ড এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ম্যাপ ও নথি উদ্ধার হয়েছে।
বড়সড় নাশকতার ছক!
প্রাথমিক জেরায় জানা গেছে, ওই পাক হ্যান্ডলারের নিশানায় ছিল উত্তরাখণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলি। চারধাম যাত্রার আগে দেবভূমিতে বড় কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরির পরিকল্পনা ছিল তার হ্যান্ডলারদের। এই গ্রেফতারির ফলে সীমান্তের ওপার থেকে চালানো বড়সড় এক ষড়যন্ত্র ধুলিসাৎ হয়ে গেল বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা
এই সাফল্যের পর মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছেন, “উত্তরাখণ্ড দেবভূমি, এখানে অপরাধী বা দেশবিরোধীদের কোনো জায়গা নেই। অপারেশন প্রহার চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত শেষ চোর-জঙ্গিকে উপড়ে ফেলা যাচ্ছে।”
বর্তমানে ধৃতকে কোনো গোপন ডেরায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে স্থানীয় আর কেউ যুক্ত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে এটিএস (ATS) ও এনআইএ (NIA)।





