২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত মিলল। একদিকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং, অন্যদিকে কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিলের সভানেত্রী তপতী রায় মল্লিক— পৃথক রাজ্যের দাবিতে এবার হাত মেলালেন দুই যুযুধান গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।
ময়নাগুড়িতে প্রথম চাল বুধবার জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি ব্লকের টিকাটুলি দলীয় কার্যালয় থেকে বড় ঘোষণা করল কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল। সংগঠনটি জানিয়ে দিয়েছে, ময়নাগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থী হচ্ছেন খোদ সভানেত্রী তপতী রায় মল্লিক। জেলা সভাপতি প্রেমানন্দ রায় জানান, প্রতীকের অপেক্ষায় থাকলেও লড়াইয়ের ময়দানে তাঁরা একচুল জমিও ছাড়বেন না। শুধু তাই নয়, উত্তরবঙ্গ ও অসম মিলিয়ে মোট ৮০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার মেগা প্ল্যান ছকেছে এই সংগঠন।
একমঞ্চে গুরুং ও তপতী আলিপুরদুয়ারের মাকরাপাড়া চা বাগানে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠকের পর বিমল গুরুং ও তপতী রায় মল্লিক ‘সেপারেট স্টেট ডিমান্ড কমিটি’ (Separate State Demand Committee) গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন।
-
লক্ষ্য: পৃথক রাজ্য গঠন এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের সামগ্রিক উন্নয়ন।
-
কৌশল: তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলে জনমত সংগ্রহে নামছেন তাঁরা। বিমল গুরুং স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাহাড় ও সমতলের অধিকার আদায়ের লড়াই এবার যৌথভাবে হবে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ কামতাপুর আন্দোলনের নেতাদের গলায় এদিন ঝরে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ। প্রেমানন্দ রায়ের অভিযোগ, “দীর্ঘ চার বছর ধরে কেএলও প্রধান জীবন সিংহকে কামতাপুর নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কেন্দ্র কোনো দাবি পূরণ করেনি।” এই বঞ্চনার জবাব দিতেই এবার গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটযুদ্ধে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
সম্পাদকের নোট: উত্তরবঙ্গের এই নয়া জোট এবং ৮০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা বিজেপি ও তৃণমূল— দুই শিবিরের ভোটব্যাঙ্কেই বড়সড় ধস নামাতে পারে। বিমল গুরুংয়ের পাহাড়ে ফেরার চেষ্টা আর কামতাপুরীদের জোট ২০২৬-এর ফলকে কতটা প্রভাবিত করবে, এখন সেটাই দেখার।