রাজ্য পুলিশে কনস্টেবল নিয়োগ ঘিরে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতায় অবশেষে বড়সড় স্বস্তি পেল রাজ্য সরকার। শারীরিক উচ্চতা যাচাইপর্ব বা ফিজিক্যাল মেজারমেন্ট টেস্ট (PMT)-এ যারা নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে না পেরে বাদ পড়েছিলেন, তাঁদের করা আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিল আদালত। এর ফলে কয়েক হাজার প্রার্থীর নিয়োগের দাবি কার্যত নস্যাৎ হয়ে গেল এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ আরও প্রশস্ত হলো।
মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, শারীরিক মাপজোকের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি বা অন্য কোনো কারণে তাঁদের উচ্চতা কম দেখানো হয়েছে। এই দাবিতে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে পুনরায় মাপজোকের আর্জি জানিয়েছিলেন। কিন্তু আদালত এদিন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শারীরিক মানদণ্ড বা ‘ফিজিক্যাল স্ট্যান্ডার্ড’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এতে হস্তক্ষেপ করার বিশেষ অবকাশ নেই। বিশেষজ্ঞ কমিটির উপস্থিতিতে যে মাপজোক হয়েছে, তাকেই চূড়ান্ত বলে মান্যতা দিয়েছে আদালত।
আদালতের এই রায়ের ফলে রাজ্য পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (WBPRB)-এর ওপর থেকে বড় চাপ কমল। হাজার হাজার প্রার্থীর আবেদন খারিজ হওয়ায় এখন যোগ্য প্রার্থীদের নিয়ে পরবর্তী ধাপের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে পারবে বোর্ড। নবান্ন সূত্রে খবর, এই রায়ের ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় থাকল এবং অহেতুক আইনি বাধার কারণে যে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটল।
তবে এই রায়ে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে সেই সমস্ত পরীক্ষার্থীদের, যারা সামান্য উচ্চতার পার্থক্যের জন্য বাদ পড়েছিলেন। তাঁদের একাংশের দাবি ছিল, মাত্র ০.৫ সেন্টিমিটার বা তার কম পার্থক্যের জন্য তাঁদের সুযোগ হারানোটা অনভিপ্রেত। কিন্তু আদালত নিয়মের কড়াকড়ি বজায় রাখায় আপাতত তাঁদের জন্য সমস্ত দরজা বন্ধ হয়ে গেল। এখন দেখার, বোর্ড বাকি প্রার্থীদের চূড়ান্ত মেধাতালিকা কবে প্রকাশ করে।