বিশ্বজুড়ে ইবোলা ভাইরাসের ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের প্রেক্ষিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এটিকে ‘গ্লোবাল হেলথ ইমার্জেন্সি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই পরিস্থিতিতে মারণ ভাইরাসের থাবা থেকে দেশবাসীকে বাঁচাতে ভারত সরকার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উচ্চপর্যায়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মূলত আফ্রিকার দেশগুলোতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করায় কেন্দ্র সরকার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব সমস্ত রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকের পরই সারা দেশে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। দিল্লি বিমানবন্দরের তরফে জানানো হয়েছে, যেসব যাত্রী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, উগান্ডা বা দক্ষিণ সুদান থেকে আসছেন বা এই দেশগুলো হয়ে ট্রানজিট করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা হচ্ছে। এই দেশগুলোকে বর্তমানে ‘হাই রিস্ক’ বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিমানবন্দরের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, যদি কোনো যাত্রী এই দেশগুলো থেকে ভারতে আসার ২১ দিনের মধ্যে অসুস্থ বোধ করেন, তবে তাঁকে দ্রুত স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য ডেস্ক বা স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কাছে ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের আগেই সমস্ত তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কী কী উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হবেন?
ইবোলা অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাস। এর প্রধান উপসর্গগুলো হলো:
হঠাৎ করে তীব্র জ্বর।
প্রচণ্ড মাথাব্যথা এবং শারীরিক দুর্বলতা।
পেশিতে তীব্র ব্যথা এবং গাঁটে ব্যথা।
অবিরাম বমি এবং ডায়ারিয়া।
গলা ব্যথা এবং অস্বাভাবিক রক্তপাত।
স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তি আক্রান্ত কোনো রোগীর রক্ত বা শারীরিক তরলের সরাসরি সংস্পর্শে আসেন, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইতিমধ্যে ৫১ জনেরও বেশি মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে এই মহামারি আরও ভয়ংকর আকার নিতে পারে।
কেন্দ্রীয় সরকার যাত্রীদের উদ্দেশে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই, তবে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। ভ্রমণের ইতিহাস গোপন না করে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এখন অপরিহার্য। বিদেশ থেকে আগত সকল যাত্রীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইবোলা মোকাবিলায় প্রতিটি বিমানবন্দরে বিশেষ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার সমস্ত সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করছে যাতে এই মারণ ভাইরাস দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে না পারে।





