ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-র মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ এক লহমায় বদলে গিয়েছে। মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় খামেনেই ও তাঁর পরিবারের নিহতের ঘটনাকে ‘বর্তমান শাসনের শেষের শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। রবিবারের এই হামলাকে তিনি একটি ‘গেম চেঞ্জার’ বা ঐতিহাসিক মোড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পাহলভির হুঙ্কার:
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাহলভি দাবি করেন, এই হামলা কেবল পরমাণু কর্মসূচি রোখার জন্য নয়, বরং স্বৈরাচারী শাসনের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার জন্য। তিনি বলেন, “এতদিন এই মুহূর্তটার জন্যই আমরা অপেক্ষা করছিলাম। শাসনের মাথা কেটে ফেলা হয়েছে, এবার সম্পূর্ণ পতন কেবল সময়ের অপেক্ষা।” তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি সাধারণ ইরানিদের রাস্তায় নেমে দেশ ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দেবে।
গণতন্ত্রের পথে ইরান?
নির্বাসিত রাজকুমার জানান, তিনি ইতিমধ্যেই ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। বর্তমান ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে একটি গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে তিনি দেশের ভিতরের আন্দোলনকারী এবং সেনাবাহিনীর একটি অংশের সঙ্গে জোটবদ্ধ হচ্ছেন। সংখ্যালঘু এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীকে নিয়ে একটি বৈচিত্র্যময় জাতীয় প্রকল্পের নেতৃত্ব দিতে তিনি প্রস্তুত।
পাল্টা আঘাত ইরানের:
খামেনেই-র মৃত্যুর পর ইরানও চুপ করে নেই। প্রতিশোধ নিতে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক আরব দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসলামিক রিপাবলিক। যুদ্ধের এই আবহে পাহলভির এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।