মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কামানের গর্জন এবার প্রভাব ফেলতে চলেছে ভারতের সাধারণ মানুষের শোয়ার ঘরেও। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকার মধ্যে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম আকাশছোঁয়া। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে চলেছে কনডম বা গর্ভনিরোধকের দামে। বাজার বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক সপ্তাহে ভারতে কনডমের দাম ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
কেন বাড়ছে দাম? কনডম তৈরির প্রধান কাঁচামাল হল প্রাকৃতিক ল্যাটেক্স (Latex), সিলিকন অয়েল এবং প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল। ইরান যুদ্ধের ফলে লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ। এর ফলে বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানির খরচ বা ফ্রেট চার্জ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এছাড়া, কনডমের পিচ্ছিলকারক বা লুব্রিকেন্টের জন্য ব্যবহৃত সিলিকন অয়েল পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য হওয়ায় তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথে এর উৎপাদন খরচও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
ভারতের অন্যতম বড় কনডম প্রস্তুতকারী কেন্দ্র মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগর (ঔরঙ্গাবাদ) থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই কাঁচামালের সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। কোম্পানিগুলো জানাচ্ছে, তারা যদি এই বাড়তি খরচের বোঝা ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেয়, তবে সাধারণ মানুষের পকেটে বড় টান পড়বে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কনডমের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের হার কমতে পারে, যা পরোক্ষভাবে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ এবং যৌনবাহিত রোগের (STI) ঝুঁকি বাড়িয়ে দেবে।
বর্তমানে ভারতে কনডমের একটি প্যাকেটের দাম ব্র্যান্ডভেদে ২০ থেকে শুরু করে ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়। যদি ৫০ শতাংশ দাম বাড়ে, তবে সাধারণ মধ্যবিত্তের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। যুদ্ধের মেঘ না কাটলে আগামী দিনে শুধু কনডম নয়, ল্যাটেক্স দিয়ে তৈরি গ্লাভস এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের দামও যে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাবে, সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল।