ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি কি চূড়ান্ত? ১২০ বিলিয়ন ডলার ফেরতের শর্তে বিশ্ব অর্থনীতিতে তোলপাড়!

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে শান্তি আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সিএনএন ও আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে কাজ করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। তবে এই চুক্তির মূল শর্ত হিসেবে ইরান তাদের বিদেশে জব্দ থাকা বিপুল সম্পদ ফেরতের দাবি জানিয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বের আটটি দেশে ইরানের প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১১.৪৯ লক্ষ কোটি টাকা) সম্পদ ও অর্থ জব্দ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে চীনে ২০ বিলিয়ন, কাতারে ১২ বিলিয়ন, ভারতে ৭ বিলিয়ন, ইরাকে ৬ বিলিয়ন, এবং যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও লুক্সেমবার্গে আরও প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। ইরান এই অর্থ তাদের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যবহার করতে চায়।

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধানের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল কাতারে পৌঁছে এই তহবিল ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। গুঞ্জন রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র শর্তসাপেক্ষে কিছু সম্পদ ছাড়তে সম্মত হয়েছে, যার বিনিময়ে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে চীন, জাপানসহ আটটি দেশের ব্যাংকিং ও জ্বালানি কৌশলে বড় ধরনের রদবদল আসতে পারে। ইরান নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেল উৎপাদন বাড়াতে পারলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব ফেলবে। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো বাকি, তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই উদ্যোগ বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর জন্য বড় পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy