ইরানে ‘ভয়ঙ্কর’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের! খনিজ তেলের ওপর নজর, বিশ্বজুড়ে তীব্র আতঙ্ক

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন, ২০২৬) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ফের কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, তেহরান যদি আলোচনার টেবিলে শর্ত মেনে কোনো চুক্তিতে সই না করে, তবে আমেরিকার বাহিনী ইরানের ওপর আরও বড় ও ‘ভয়ঙ্কর’ আক্রমণ চালাতে প্রস্তুত।

বর্তমান পরিস্থিতির কারণ: ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে, যখন আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হয়। যদিও এপ্রিল মাসে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, কিন্তু সেই শান্তি প্রক্রিয়া কার্যত ভেঙে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি মার্কিন সেনা হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি নতুন করে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। এর পালটা হিসেবে আমেরিকা ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে।

ট্রাম্পের হুমকি ও লক্ষ্য: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের আলোচকরা চুক্তির প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে সময় নষ্ট করছেন। এর ফলেই তিনি ইরানের ওপর আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। বিশেষত, ইরানের খনিজ তেলের অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমেরিকার হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

হরমুজ প্রণালী ও তেলের বাজারে প্রভাব: এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। ইরান ইতিমধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, এই জলপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে তার ওপর আক্রমণ চালানো হবে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে খনিজ তেলের অভাব ও মূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

পালটা দাবি ও অস্বীকার: এদিকে, ইরানের তরফ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, কোনো ধরনের আলোচনার প্রস্তাব বা যোগাযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের মতে, যুদ্ধের হাত থেকে বাঁচতে এবং যুদ্ধের দায় এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসন এসব ভিত্তিহীন তথ্য ছড়াচ্ছে।

উভয় দেশের এই সংঘাতময় পরিস্থিতির ওপর এখন গোটা বিশ্বের নজর রয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত তারা প্রয়োজন অনুযায়ী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy