পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্রে এবার কি তবে সরাসরি স্থল যুদ্ধের (Ground Operation) সূচনা হতে চলেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি এবং মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার মার্কিন সেনার আগমনে এই জল্পনা এখন তুঙ্গে। মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ (USS Tripoli)-তে চড়ে প্রায় ২৫০০ দক্ষ নৌসেনা (Marines) ইতিমধ্যেই অপারেশনাল জোনে পৌঁছে গিয়েছেন। এই বাহিনী মূলত উভচর অভিযানে পারদর্শী, যা সরাসরি ইরানের কোনো ভূখণ্ড দখলের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পেন্টাগনের প্রধান লক্ষ্য এখন ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ‘খারিগ দ্বীপ’ (Kharg Island)। এই দ্বীপটি থেকেই ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রফতানি হয়। গত ১৩ মার্চ মার্কিন বিমান বাহিনী খারিগের সামরিক পরিকাঠামোয় ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক’ চালিয়ে ৯০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করেছে। কিন্তু তাতেও ইরান নতিস্বীকার না করায়, এবার সরাসরি দ্বীপটি দখল বা অবরুদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিকের কথায়, “প্রয়োজন হলে যেকোনো মুহূর্তে খারিগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে মার্কিন সেনা।”
ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। খারিগ দ্বীপের চারপাশে মাইন বিছানো এবং অতিরিক্ত বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ইরানের সংসদীয় স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “আমাদের কোনো দ্বীপ দখলের চেষ্টা হলে অঞ্চলের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি এবং মিত্র দেশগুলোর পরিকাঠামো ছারখার করে দেওয়া হবে।” একদিকে আমেরিকার ৫০০০ মেরিন ও ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের আগমন, অন্যদিকে ইরানের পাল্টা রণসজ্জা— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খারিগ দ্বীপ দখল করতে পারলে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করা যাবে এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হবে। তবে এই অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অধীনে চলা এই লড়াইয়ে মার্কিন সেনার হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ২৯ মার্চ ২০২৬-এর এই সকালে গোটা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে পারস্য উপসাগরের দিকে— খারিগ কি সত্যিই আমেরিকার দখলে যাবে, নাকি শুরু হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের মহড়া?