আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইয়ের উত্তরসূরি হিসেবে যাঁর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত, সেই মোজতবা খামেনেই এখন কোথায়? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক রহস্যময় নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা কাঠামো এখন কার নিয়ন্ত্রণে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চরম জল্পনা। বিশেষ করে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা CIA এবং ইজরায়েলের মোসাদ এখন খামেনেই-পুত্রের হদিশ পেতে কার্যত অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছে।
গত মাসের হামলার পর থেকেই মোজতবাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। গুঞ্জন উঠেছে, ইজরায়েলি ‘টার্গেট কিলিং’ থেকে বাঁচতে তাঁকে কি কোনো অতি-সুরক্ষিত গোপন বাঙ্কারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, নাকি তিনি পর্দার আড়ালে থেকে যুদ্ধের পাল্টা রণকৌশল সাজাচ্ছেন? ইজরায়েলি গোয়েন্দাদের দাবি, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবার নাম প্রায় চূড়ান্ত। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা তেহরানের কাছে এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এবং হিজবুল্লাহ-হামাসকে মদত দেওয়ার নেপথ্যে মোজতবার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করা হয়। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ডস’ বা IRGC-র ওপর তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে মোজতবার হঠাৎ আড়ালে চলে যাওয়া মোসাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সম্ভবত বড় কোনো পালটা আঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং সেই অপারেশনের মাস্টারমাইন্ড হতে পারেন মোজতবা নিজেই। তেহরানের আকাশে যখন যুদ্ধের কালো মেঘ, তখন এই রহস্যময় নীরবতা কি ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে গোটা বিশ্ব।