ভোট শেষ হলেও শান্ত নেই বঙ্গ রাজনীতি। এবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা (২২৭) এবং দাসপুর (২৩৩) বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা প্রক্রিয়া ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। গণনা কেন্দ্রে সংবেদনশীল পদে চুক্তিভিত্তিক ও অস্থায়ী কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।
শুভেন্দুর অভিযোগের নিশানায় কারা?
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, সরকারি কাউন্টিং অর্ডারে দেখা যাচ্ছে যে অত্যন্ত সংবেদনশীল গণনার কাজে “জীবিকা সহায়ক”, “সহায়ক”, “ভিএলই” এবং “কন্ট্রাকচুয়াল ডিইও”-দের মতো অস্থায়ী পদে থাকা কর্মীদের নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, যেখানে ইভিএম (EVM), ভিভিপ্যাট (VVPAT) এবং পোস্টাল ব্যালট পরিচালনার মতো কাজের জন্য স্থায়ী ও অভিজ্ঞ সরকারি কর্মীর প্রয়োজন, সেখানে কেন অস্থায়ী কর্মীদের উপর ভরসা করা হচ্ছে?
নির্দিষ্ট তথ্য ও চাঞ্চল্যকর দাবি:
প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে, পিংলা বিধানসভা কেন্দ্রে বিপ্লবেন্দু বেরা, শঙ্কর পাহাড়ি এবং নব কুমার অপিকের মতো চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা সরাসরি কাউন্টিং ও কম্পাইলেশন টিমে রয়েছেন। এমনকি রিজার্ভ ট্যাগিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজেও তাঁদের রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, দাসপুর কেন্দ্রেও ভিএলই এবং কন্ট্রাকচুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের (DEO) ইভিএম মুভমেন্ট এবং সিলিং প্রক্রিয়ার মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে যুক্ত করা হয়েছে।
নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় প্রশ্ন:
বিরোধী দলনেতার যুক্তি, অস্থায়ী কর্মীরা প্রশাসনিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল এবং তাঁরা অনেক সময় শাসক দলের বা স্থানীয় নেতৃত্বের চাপের মুখে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন। ফলে তাঁদের মাধ্যমে ভোট গণনায় নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত এই স্তরের কাজে স্থায়ী সরকারি কর্মীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, কারণ তাঁদের জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা:
এই ঘটনায় কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। যেখানে আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারিতে গণনা হওয়ার কথা, সেখানে অভ্যন্তরীণ স্তরে অস্থায়ী কর্মীদের ব্যবহার কেন? তৃণমূল বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট বয়ান মেলেনি। তবে বিরোধীদের দাবি, পিংলা ও দাসপুর তো শুধু উদাহরণ, গোটা জেলাজুড়ে কাউন্টিং কর্মীদের তালিকা পুনরায় খতিয়ে দেখুক কমিশন। গণনার স্বচ্ছতা রক্ষায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ।





