ভারতের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের তকমা পাওয়া মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর এখন মৃত্যুপুরী। ভাগীরথপুরায় পুরসভার সরবরাহ করা দূষিত জল পান করে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭। যদিও অসমর্থিত সূত্রের দাবি, এই সংখ্যা আরও বেশি। গত ২৫ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই মারণ সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত ১২০ জনেরও বেশি মানুষ হাসপাতালে ভর্তি। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে জোনাল অফিসার শালিগ্রাম সিতোলে এবং সহকারী ইঞ্জিনিয়ার যোগেশ জোশীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরি খুইয়েছেন জনস্বাস্থ্য দপ্তরের এক সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার।
ঘটনার মর্মান্তিক দিকটি ফুটে উঠেছে ১০ বছর পর পাওয়া এক সন্তানকে হারানো বাবার আর্তনাদে। মৃত শিশুটির বাবা সুনীল সাহু জানান, বহু প্রার্থনা আর অপেক্ষার পর কোল আলো করে এসেছিল সন্তানটি। কিন্তু দুধের সঙ্গে পুরসভার সরবরাহ করা জল মিশিয়ে খাওয়ানোর পরেই শুরু হয় বমি ও ডায়রিয়া। হাসপাতালেই মৃত্যু হয় ৬ মাসের ওই একরত্তি শিশুর। বর্তমানে ইন্দোরের বিভিন্ন হাসপাতালে ৬৬ জন চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পানীয় জলের পাইপের একটি লিকেজের ওপর একটি শৌচাগার ছিল, যেখান থেকেই মলমূত্র ও নর্দমার জল পানীয় জলের সঙ্গে মিশে বিষে পরিণত হয়েছে।
এই ঘটনায় উত্তাল রাজ্যের রাজনীতি। মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি জিতু পাটোয়ারী সরাসরি পুর প্রশাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়কে আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ২৩০০ কোটি টাকার জল বাজেট থাকা সত্ত্বেও মানুষ বিষাক্ত জল পান করছে। বিরোধীদের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা গোপন করছে প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৪ জন ডাক্তার ও ২৪ জন প্যারামেডিক্যাল স্টাফের একটি দল ঘর-ঘর স্ক্রিনিং শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ও অসুস্থদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা করেছেন। ঘটনার তদন্তে আইএএস নবজীবন পানওয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।