মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই নতুন এক কূটনৈতিক চালে মুসলিম বিশ্বের রোষের মুখে পড়ল ইজরায়েল। সোমালি ল্যান্ডে (Somaliland) ইজরায়েলের পক্ষ থেকে একজন কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে এই তোলপাড়। সৌদি আরব এবং মিশরসহ বিশ্বের ১৬টি মুসলিম দেশ এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে একজোট হয়েছে।
কেন ক্ষুব্ধ মুসলিম দেশগুলো? ইজরায়েলের এই সিদ্ধান্তকে সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখছে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো। ১৬টি দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এই ধরণের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। তাদের দাবি, সোমালিয়াকে বিভক্ত করার বা আঞ্চলিক শান্তি বিঘ্নিত করার কোনো চেষ্টাই বরদাস্ত করা হবে না।
বিবৃতিতে কী বলা হয়েছে? সৌদি আরব, মিশর এবং অন্য দেশগুলো জানিয়েছে:
ইজরায়েলের এই পদক্ষেপ আফ্রিকার শিং (Horn of Africa) অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এটি সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপের শামিল।
এই ধরণের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।
ইজরায়েলের কৌশল ও পালটা চাপ: বিশেষজ্ঞদের মতে, সোমালি ল্যান্ডে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে কৌশলগত সুবিধা নিতে চাইছে ইজরায়েল। কিন্তু সৌদি ও মিশরের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো এই প্রতিবাদে শামিল হওয়ায় বিষয়টি এখন বড়সড় আন্তর্জাতিক সংকটের রূপ নিয়েছে। ইতিপূর্বেই ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন ইস্যু নিয়ে ক্ষোভ ছিলই, তার ওপর এই নতুন পদক্ষেপ আগুনেই ঘি ঢালল বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, ১৬টি মুসলিম দেশের এই সম্মিলিত চাপের মুখে ইজরায়েল তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে কি না।





