বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত ও সাইপ্রাস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সাইপ্রাসের রাষ্ট্রপতি নিকোস ক্রিস্টোডৌলিডসের মধ্যে দিল্লি-বৈঠকের পর দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্তরে উন্নীত করার ঘোষণা করেছে। এই চুক্তি কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি নয়, বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে ভারতের প্রবেশাধিকার আরও সহজতর করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী উল্লেখ করেন, গত ১০ বছরে ভারত ও সাইপ্রাসের মধ্যকার বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এই বিনিয়োগের পরিমাণ আবারও দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সাইপ্রাস এখন ভারতের জন্য ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ার মধ্যকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবেশদ্বার বা ‘গেটওয়ে’ হিসেবে কাজ করবে। ভারতের সঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার মতো অভিন্ন আদর্শের ভিত্তিতে এই অংশীদারিত্ব গড়ে উঠেছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি ও আলোচনার পক্ষে সওয়াল করেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। মোদী জোর দিয়ে বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার অপরিহার্য। চীন যখন ইউরোপে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তখন সাইপ্রাসের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে ভারতের এই গভীর মৈত্রী কূটনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এই নতুন কৌশলগত বন্ধুত্ব ভারতকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী অবস্থানে দাঁড় করাবে।





