ইউনূস যুগের অবসান? নির্বাচন শেষে কী হতে চলেছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নতুন ঠিকানা!

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক উত্তাল সময়ে হাল ধরেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বের মেয়াদ এবার শেষের পথে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন এবং সংবিধান সংশোধনের গণভোট আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি একটি নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দিতে প্রস্তুত। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এর পর কী করবেন ৮৫ বছর বয়সী এই কর্মবীর?

রাজনীতিতে কি আগ্রহ আছে? ড. ইউনূস বারবার স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর কোনো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, তিনি কোনো নির্বাচিত সরকারের অংশ হতে চান না। তাঁর প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি ‘ভেঙে পড়া’ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে মেরামত করা এবং দেশে গণতন্ত্রের পরিবেশ ফিরিয়ে আনা। তাঁর প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলমও নিশ্চিত করেছেন যে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর করে তিনি তাঁর চিরচেনা সামাজিক ব্যবসায়িক (Social Business) কর্মকাণ্ডে ফিরে যেতে চান।

পরবর্তী গন্তব্য ও লক্ষ্য: ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার পদ ছাড়ার পর তিনি পুনরায় তাঁর বৈশ্বিক মিশন ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ) নিয়ে কাজ শুরু করবেন।

  • সামাজিক ব্যবসা: বিশ্বজুড়ে নতুন নতুন সামাজিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।

  • বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্ব: অলিম্পিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় তাঁর যে সম্মানজনক অবস্থান রয়েছে, সেখানে তিনি আরও বেশি সময় দেবেন।

  • সাংবিধানিক পদের জল্পনা: যদিও গুঞ্জন রয়েছে যে নতুন সরকার তাঁকে রাষ্ট্রপতি বা কোনো বিশেষ উপদেষ্টা পদে বসাতে পারে, তবে তাঁর ব্যক্তিগত অনীহা এই জল্পনাকে ফিকে করে দিচ্ছে।

ড. ইউনূস প্রমাণ করেছেন যে তিনি কেবল এক অর্থনীতিবিদ নন, বরং সংকটে দেশের কাণ্ডারি। এখন তিনি সুন্দরভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে পুনরায় বিশ্বনাগরিকের ভূমিকায় ফিরতে উন্মুখ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy