আলু চাষিদের চোখের জলে ভিজছে বাংলার মাঠ। বর্তমান বাজারদরের যে ছবি উঠে আসছে, তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। একদিকে সাধারণ মানুষ ১২ টাকা কেজি দরে আলু কিনছেন, আর অন্যদিকে সেই আলু ফলিয়ে চাষির পকেটে লাভ হিসেবে ঢুকছে মাত্র ১ টাকা! হিসাব বলছে, প্রতি কেজিতে ১১ টাকার হদিশ নেই। প্রশ্ন উঠছে, চাষি ও খরিদ্দারের মাঝে থাকা এই বিপুল অঙ্কের টাকা কার পকেটে যাচ্ছে?
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে এক চরম হতাশার কাহিনী। এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে তিন মাস সময় লাগে। সার, বীজ, জল এবং শ্রম মিলিয়ে খরচ হয় প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা। এত খাটুনির পর সরকার বা আড়তদারদের থেকে যে দাম মিলছে, তাতে সব খরচ বাদ দিয়ে চাষির নিট লাভ থাকছে মাত্র ২০০০ টাকার আশেপাশে। অর্থাৎ কেজি প্রতি মাত্র ১ টাকা লাভের মুখ দেখছেন অন্নদাতারা। অথচ খুচরো বাজারে সেই আলুর দামই আকাশছোঁয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১১ টাকার বড় অংশটাই চলে যাচ্ছে ফড়ে, দালাল এবং হিমঘরের অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটে। মাঠ থেকে বাজার পর্যন্ত আলু পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় যে মধ্যস্বত্বভোগীরা রয়েছে, তারাই সিন্ডিকেট রাজ চালিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। চাষি বাধ্য হচ্ছেন কম দামে ফসল বিক্রি করতে, আর সাধারণ মানুষকে সেই একই আলু কিনতে হচ্ছে চড়া দামে। সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অসাম্য দূর হওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন কৃষিজীবী সমাজ।