আর মাত্র ৪ দিনের গ্যাস বাকি! ইরান যুদ্ধে বন্ধ হরমুজ প্রণালী, ভারতের হাহাকার নিয়ে নির্লিপ্ত ট্রাম্প?

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার সরাসরি ভারতের রান্নাঘরে আঘাত হানতে চলেছে। ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে বন্ধ হওয়ার মুখে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ ‘হরমুজ প্রণালী’। এই সংকটের আবহে ভারতের জন্য অশনিসংকেত শুনিয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররা। জানা গিয়েছে, দেশের অধিকাংশ ডিস্ট্রিবিউটরের হাতে আর মাত্র ৪ থেকে ৫ দিনের এলপিজি (LPG) স্টক রয়েছে। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও কার্যত উদাসীন ও বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ভারত কেন সংকটে? ভারতের রান্নার গ্যাসের চাহিদার একটি বিশাল অংশ মেটানো হয় আমদানির মাধ্যমে। কাতার এবং সৌদি আরব থেকে আসা এলপিজি বাহী জাহাজগুলিকে ‘হরমুজ প্রণালী’ হয়েই আসতে হয়। ইরানের হুমকির জেরে সেখানে অসংখ্য জাহাজ আটকে পড়েছে। ফলে দেশে নতুন করে গ্যাসের যোগান প্রায় স্তব্ধ। ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী সপ্তাহ থেকেই সিলিন্ডারের জন্য হাহাকার শুরু হবে। এই আশঙ্কায় দেশজুড়ে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ইতিমধ্যেই জরুরি তৎপরতা শুরু করেছে।

ট্রাম্পের ‘বিতর্কিত’ অবস্থান: বিশ্ব যখন এই জ্বালানি সংকটে আতঙ্কিত, তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়া প্রসঙ্গে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে তিনি অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে জানান যে, দাম বাড়লে তা নিয়ে তিনি খুব একটা চিন্তিত নন। ট্রাম্পের কথায়, “যদি গ্যাসের দাম বাড়ে, তবে বাড়বে। আমাদের নিজেদের জ্বালানি শক্তি বাড়ানোর দিকে নজর দিতে হবে।” ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশ, যারা আমদানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য ট্রাম্পের এই মন্তব্য ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের রণকৌশল: কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বিকল্প পথে গ্যাস আমদানির কথা ভাবছে। দেশে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো এবং মজুদ ভাণ্ডার রক্ষা করতে কড়া আইন প্রয়োগের পথে হাঁটছে মোদি সরকার। তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অচলাবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের পকেটে যে বড়সড় টান পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy