বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপট এখন আমূল পরিবর্তিত। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ জয়ী হওয়ার পর থেকেই আলোচনায় এখন একটাই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি? বর্তমান রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন আগেই তাঁর সরে যাওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তিনি রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, “আমি সরে যেতে চাই, পদত্যাগ করতে চাই। তবে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা প্রয়োজন ছিল।”
বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সাহাবুদ্দিনের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা নিয়ে দলের অন্দরে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই পদের জন্য সবচেয়ে জোরালো নাম হিসেবে উঠে আসছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম। দলের নীতি-নির্ধারণী মহলে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। এর আগেও দলের বিভিন্ন সভা থেকে খন্দকার মোশাররফকে দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রপতি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছাড়াও আলোচনায় রয়েছে নজরুল ইসলাম খানের নাম। তবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যের বিচারে খন্দকার মোশাররফই দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ২০২৮ সাল পর্যন্ত থাকলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত অনিচ্ছার কারণে খুব শীঘ্রই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার। বাংলাদেশের নতুন সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে শেষ পর্যন্ত কার মাথায় মুকুট ওঠে, এখন সেটাই দেখার।