সারা জীবনের মূলধন জড়ো করে একটি খোলামেলা জায়গায় স্বপ্নের বাড়ি কেনার প্রবণতা অনেক সিনিয়র সিটিজেনকেই আর্থিক টানাটানিতে ফেলে দিচ্ছে। এমনকি, অনেকে চাকরি করাকালীন লোনের মাধ্যমে একের পর এক স্থাবর সম্পত্তি কেনেন। বিপুল অঙ্কের EMI এবং সুদের বোঝা মাথায় চাপিয়ে তাঁরা ভাবেন অনেক লাভ করছেন, কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। এমনই উদ্বেগজনক রিপোর্ট প্রকাশ করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)।
আর্থিক টানাটানির মূল কারণ:
জীবনের সমস্ত সঞ্চয় একটি মাত্র (এবং অ-তরল) সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করার ফলে আর্থিক টানাটানি বেড়ে যায়।
অ-তরল সম্পদের ফাঁদ: হঠাৎ অসুস্থতা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে ফ্ল্যাট, বাড়ি বা জমি বিক্রি করা সম্ভব হয় না। বিক্রি করতে গেলেও দীর্ঘ সময় লাগে এবং তাতে লাভের চেয়ে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে।
EMI-এর বোঝা: বিরাট অঙ্কের EMI এবং সুদের বোঝা বয়স্ক বয়সেও মানুষকে ঋণমুক্ত হতে দেয় না, ফলে জীবন কাটে আর্থিক সংকটে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: বিনিয়োগের সঠিক বিভাজনই সমাধান
হাতে টাকা থাকা বা লিকুইডিটি বজায় রাখা জীবনের যেকোনো পর্যায়ে, বিশেষ করে সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্পদ কেনার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তার সঠিক বিনিয়োগ এবং বিভাজন বা ডাইভারসিফিকেশন।
বিনিয়োগের পথ:
ঋণমুক্ত জীবন যাপন করতে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ সামলাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—আপনার মোট পুঁজির একটি অংশ অবশ্যই তরল (Liquid) খাতে রাখুন।
জরুরি ফান্ড: দ্রুত নগদ পাওয়া যায় এমন খাতে (যেমন সেভিংস অ্যাকাউন্ট, লিকুইড মিউচুয়াল ফান্ড, ফিক্সড ডিপোজিট) পর্যাপ্ত অর্থ রাখুন।
সঠিক বিভাজন: আপনার মোট সম্পদকে স্থাবর সম্পত্তি, ইক্যুইটি, গোল্ড এবং লিকুইড ফান্ডের মধ্যে ভাগ করে বিনিয়োগ করুন।
সঠিক বিনিয়োগ এবং সম্পদের ভারসাম্য বজায় রাখলে তবেই সুদের বোঝা এড়িয়ে জীবনকে আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া সম্ভব।