মালদহ মানেই এককালে ছিল আমের সুবাস, কিন্তু আজ সেই জেলার পরিচিতি বদলে দিচ্ছে ভয়ংকর এক ‘মাদক শিল্প’। সম্প্রতি ইংরেজবাজারের কুমারপুর এলাকায় একটি গোপন কারখানায় হানা দিয়ে ১৭ কোটি টাকার ব্রাউন সুগার উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার তদন্তে নেমে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে আসা কাঁচামাল ব্যবহার করে মালদহের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে আধুনিক মাদক তৈরির ল্যাবরেটরি।
এই বিশাল সাম্রাজ্যের মূল পাণ্ডা এনারুল শেখ, যাকে ইতিমধ্যই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো পাচারের কৌশল। পুলিশের নজর এড়াতে মাদক মাফিয়ারা ১২ থেকে ১৪ বছরের স্কুল পড়ুয়াদের ‘কেরিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে। স্কুল ব্যাগে বই-খাতার আড়ালেই পাচার হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার মাদক। শুধু শিশুরাই নয়, পাচারচক্রে শামিল করা হচ্ছে সদ্য মা হওয়া মহিলাদেরও। বেবি ফুডের কৌটোর আড়ালে সুকৌশলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে হিরোইন বা ব্রাউন সুগার।
মালদহ জেলা পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, মণিপুর, বিহার, গোয়া ও ঝাড়খণ্ড থেকেও এই চক্রের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। ধরা পড়া এক নাবালকের বয়ান শুনে শিউরে উঠছেন দুঁদে পুলিশ কর্তারাও। সে জানায়, কাজের বিনিময়ে তাকে টাকা নয়, বরং নেশার দ্রব্য দেওয়া হতো। অর্থের লোভ এবং নেশার টান— এই দুইকে অস্ত্র করেই শৈশবকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে আন্তঃরাজ্য এই ড্রাগ সিন্ডিকেট।