আধ্যাত্মিকতার পবিত্র আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক লম্পট কামনার বীভৎস চেহারা। নিজেকে ‘শিবের অবতার’ দাবি করে এক মহিলাকে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করল ভাসাইয়ের স্বঘোষিত ধর্মগুরু ঋষিকেশ বৈদ্যকে। ৩৫ বছর বয়সী এই ‘বাবা’র কীর্তি প্রকাশ্যে আসতেই মহারাষ্ট্রের ভাসাই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভণ্ডামির এই নয়া নজির দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও।
ঘটনার সূত্রপাত ও ‘অবতার’ তত্ত্ব: পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা মহিলা গত বেশ কয়েক মাস ধরে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সেই সুযোগেই তাঁর পরিবার ঋষিকেশ বৈদ্যর কাছে আশীর্বাদ নিতে যান। অভিযোগ, ঋষিকেশ নিজেকে সাক্ষাৎ ‘মহাদেব’ বা শিবের অবতার হিসেবে পরিচয় দেয়। সে ওই মহিলাকে বোঝাতে শুরু করে যে, পূর্বজন্মে ওই মহিলা আসলে ‘পার্বতী’ ছিলেন এবং এই জন্মে শিবের সঙ্গে শারীরিক মিলনের মাধ্যমেই তাঁর মুক্তি বা ‘মোক্ষ’ লাভ সম্ভব।
ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইল: নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, ধর্মীয় ভয়ের দোহাই দিয়ে এবং আধ্যাত্মিক সম্মোহন তৈরি করে ঋষিকেশ তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের সময় কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও তুলে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে মহিলাকে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে ওই ভণ্ড সাধু। মুখ খুললে পরিবারের অমঙ্গল হবে—এই ভয় দেখিয়েও দীর্ঘদিন ওই মহিলার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালানো হয়।
পুলিশি পদক্ষেপ: অবশেষে সহ্যশক্তির সীমা ছাড়িয়ে গেলে ওই মহিলা ভাসাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ৩৫ বছর বয়সী ঋষিকেশ বৈদ্যকে গ্রেফতার করেছে। তাঁর আস্তানা থেকে বেশ কিছু আপত্তিকর সামগ্রী এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ), ৫০৬ (হুমকি প্রদর্শন) এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
জনসাধারণের প্রতি সতর্কবার্তা: এই ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আধ্যাত্মিক সমাজ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। ধর্মের নামে অন্ধবিশ্বাস এবং নিজেকে ঈশ্বর দাবি করা ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভাসাই পুলিশ খতিয়ে দেখছে যে, এই ঋষিকেশ আর কোনো মহিলার সঙ্গে একই ধরণের প্রতারণা করেছে কি না।