“আমি মাথা নোয়ানোর লোক নই!” শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতেই ওপারে কেন এত চরম চিড়বিড়ানি? বিস্ফোরক নবান্ন

রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক কড়া ও সাহসী পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত ঝড় তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার কেবল রাজ্যের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, সীমান্ত ওপারের কট্টরপন্থী ও দেশবিরোধী শক্তিকেও প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতার এক হাইপ্রোফাইল অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় বাংলাদেশের জামাতি ও উগ্রপন্থী সংগঠনগুলিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে অত্যন্ত কড়া ভাষায় জানিয়ে দিলেন, কোনও ধরনের প্রচ্ছন্ন হুমকি বা ভয় দেখিয়ে তাঁকে দমানো যাবে না।

সোমবার রাতে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা গেছে, ক্যামাক স্ট্রিটের ধন্যবাদ জ্ঞাপন অনুষ্ঠানের মেগা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ওপার বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং তার জেরে পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষায় তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ নিয়ে মুখ খোলেন। শুভেন্দু অধিকারী সপাটে তোপ দেগে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবং আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ওপার বাংলার জামাতিদের চিড়বিড়ানি বা ছটফটানি অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তারা বুঝতে পেরেছে যে নতুন জমানায় বাংলায় আর কোনও রকম অনুপ্রবেশ বা তোষণ বরদাস্ত করা হবে না।”

মঞ্চ থেকে নিজের স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আরে ভাই, আমি ভয় পাওয়ার লোক নই। আর কারও সামনে মাথা নোয়ানোর লোকও আমি নই। তাই আমাকে ওসব হুমকি বা ভয় দেখানোর কোনও দরকার নেই।” শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে ঘিরে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

political বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে রাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছেন, এই বক্তব্য তারই এক প্রতিচ্ছবি। একদিকে নতুন সরকার যখন রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামো আমূল বদলে ফেলার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ওপার বাংলার কট্টরপন্থী জামাতিদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি বুঝিয়ে দিল যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজ্যের সুরক্ষার প্রশ্নে নতুন নবান্ন কতটা আপসহীন মনোভাব নিয়ে চলতে চলেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy