‘আমি কোনো বিক্ষুব্ধ দলে নেই!’ দিল্লি-বৈঠকের জল্পনায় ইতি টেনে বিস্ফোরক প্রতিমা মণ্ডল

দিল্লিতে লোকসভার বিদ্রোহী সাংসদদের বৈঠক ও এনডিএ-র শরিক হওয়ার চিঠিতে সই করার গুঞ্জনে যখন বঙ্গ রাজনীতি তোলপাড়, সেই আবহে উঠে এসেছিল জয়নগরের তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের নাম। শোনা যাচ্ছিল, ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে আয়োজিত ওই গোপন বৈঠকে তিনিও উপস্থিত ছিলেন। তবে কলকাতায় ফিরে অবশেষে সমস্ত জল্পনায় জল ঢাললেন সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিমা মণ্ডল স্পষ্ট করে দেন, তিনি দিল্লি গিয়েছিলেন কেবলমাত্র সংসদের মিটিং ও নিজের কেন্দ্র সংক্রান্ত কাজ মেটাতে। ৪ তারিখ মিটিং শেষ করেই তিনি কলকাতায় ফিরে এসেছেন এবং বর্তমানে বালিগঞ্জের বাসভবনে রয়েছেন। সাংসদের অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা গুজব রটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘যারা এসব রটাচ্ছেন, তাঁদের বলব আমার কেন্দ্রের মানুষকে এভাবে বিভ্রান্ত করবেন না। আমি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই আছি। জোড়া ফুল আমার চিহ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার নেত্রী। ২৯ সাল পর্যন্ত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের সেবা করা আমার দায়িত্ব, সেই কাজই আমি করে যাব।’’

বিদ্রোহী সাংসদদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রতিমা মণ্ডল বলেন, ‘‘যে সমস্ত বিক্ষুব্ধ সাংসদ দিল্লিতে গিয়ে বৈঠক করছেন, দল তাঁদের শুধু সাংসদ পদই দেয়নি, একাধিক সাংগঠনিক পদে বসিয়ে সম্মানিত করেছে। তাঁরা দলের পদে থেকে অনেক সুবিধা ভোগ করেছেন। তখন কোনো ক্ষোভ ছিল না, এখন দল কিছুটা চাপে পড়তেই এই বিক্ষোভ প্রকাশ্যে আসছে। আমি মনে করি রাজনীতিতে বিরোধী মুখ থাকা প্রয়োজন, কিন্তু এভাবে দলত্যাগ বা বিদ্রোহ সমর্থনযোগ্য নয়।’’

তাহলে কেন তাঁর নাম বিদ্রোহীদের তালিকায় জুড়ে দেওয়া হলো? প্রতিমা মণ্ডলের দাবি, সম্ভবত দিল্লিতে দলের বিরুদ্ধে সরব হওয়া সাংসদদের সংখ্যা কম, তাই শক্তি প্রদর্শনের জন্য মিথ্যে করে তাঁর নাম জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আমি কোনো বিক্ষুব্ধ দলে নেই। আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।’’ সায়নী ঘোষের ভূমিকা বা অন্য কোনো সাংসদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে চান না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডাকলে তিনি অবশ্যই যাবেন এবং নিজের কেন্দ্রের মানুষের দাবি-দাওয়া তুলে ধরবেন।

নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমা মণ্ডল বলেন, ‘‘ভোটের পর থেকে ক্ষমতার অপব্যবহারের যে ছবি সামনে আসছে তা প্রমাণযোগ্য। তবে ডিম ছোড়া বা এই ধরনের আক্রমণাত্মক আচরণ গণতন্ত্রের জন্য কাম্য নয়। অন্যায়ের বিচার হবে আইনের পথে, প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’’

তবে দল ভাঙা নিয়ে সাংসদের গলায় কিছুটা আক্ষেপও শোনা গেল। প্রকাশ চিক বড়াইকের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘‘কিছুক্ষণ আগেই শুনলাম তিনি পদত্যাগ করেছেন। খারাপ লাগছে। দল যে একটু একটু করে ভাঙছে, তা দেখে মন সত্যিই ভাঙছে।’’

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy