বাংলার রাজনৈতিক ক্ষমতার অলিন্দ থেকে বিদায় নিলেও মেজাজ হারাননি তিনি। বরং আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন মেজাজে ধরা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল পরবর্তী ডামাডোলের মাঝে আজ রাজপথে নেমেই তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশে জানিয়ে দিলেন, “আমি এখন কমন ম্যান (সাধারণ মানুষ), আমি এখন মুক্ত পাখি।”
নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর যেখানে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে হাজারো প্রশ্ন উঠছিল, সেখানে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে সরাসরি জনতার দরবারে পৌঁছে গেলেন মমতা। একদা মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যে প্রটোকল বা নিরাপত্তা বেষ্টনীতে তিনি আবদ্ধ থাকতেন, তা সরিয়ে আজ তাঁকে দেখা গেল এক অন্য লড়াকু মেজাজে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, “ক্ষমতা বা চেয়ার বড় কথা নয়। আমি মানুষের মেয়ে, মানুষের পাশেই থাকব। মুক্ত পাখির মতো এবার আমি সারা বাংলা ঘুরে বেড়াব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরাজয়কে হজম করে এভাবে জনসমক্ষে আসা এবং নিজেকে ‘কমন ম্যান’ হিসেবে তুলে ধরা মমতার এক সুপরিকল্পিত কৌশল। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় কর্মীদের এই বার্তাই দিতে চাইলেন যে, লড়াই কেবল শুরু হয়েছে। রাজপথে নেমেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, হারলেও তিনি মাঠ ছাড়ছেন না। মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য তিনি পুনরায় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন।
তৃণমূল নেত্রীর এই ‘মুক্ত পাখি’ মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নিমেষের মধ্যে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। নেত্রীর অনুগামীরা মনে করছেন, প্রশাসনিক দায়িত্বের বোঝা থেকে মুক্ত হয়ে মমতা এবার আরও বেশি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে রাজনীতির ময়দান কাঁপাবেন। অন্যদিকে, বিরোধীরা একে ‘পরাজয় আড়াল করার কৌশল’ বললেও, মমতার এই নতুন অবতার যে বাংলার রাজনীতিতে আবার উত্তাপ বাড়াতে চলেছে, তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
আপাতত কোনো প্রশাসনিক পদ ছাড়াই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কীভাবে তাঁর আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং ‘সাধারণ মানুষ’ হিসেবে জনগণের মনে জায়গা ধরে রাখতে পারেন কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। তবে আজকের এই বার্তায় একটা বিষয় নিশ্চিত—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনই রাজনীতির পরিসর থেকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।





