উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ড নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি উত্তাল, ঠিক তখনই এক বিপরীতধর্মী সুর শোনা গেল শোকাতুর মায়ের গলায়। নিজের সন্তানকে হারিয়েছেন, বুকফাটা হাহাকার রয়েছে, কিন্তু তবুও খুনিদের প্রাণদণ্ড বা ফাঁসি চান না চন্দ্রনাথের মা। তাঁর এই মানবিক ও মরমী আবেদন আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করেছে।
শাস্তি চাই, কিন্তু প্রাণ কাড়তে চাই না
ছেলের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে চন্দ্রনাথের মা সংবাদমাধ্যমকে জানান, যারা তাঁর কোল খালি করেছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি হোক—সেটা তিনি মনেপ্রাণে চান। কিন্তু শাস্তি হিসেবে ‘ফাঁসি’ বা মৃত্যু তাঁর না-পসন্দ। অশ্রুসজল চোখে তিনি বলেন, “আমি মা তো… তাই কারোর প্রাণ কেড়ে নেওয়া সমর্থন করতে পারছি না। যারা আমার ছেলেকে মারল, তাদেরও তো মা আছে। ফাঁসি হলে সেই মায়ের কোলও খালি হবে। আমি চাই ওরা জেলে পচে মরুক, কিন্তু ওদের প্রাণটা যেন না যায়।” এক জন শোকাতুর মায়ের এই আশ্চর্য ধৈর্য এবং ক্ষমাশীল মানসিকতা দেখে হতবাক তদন্তকারী আধিকারিক থেকে শুরু করে প্রতিবেশী সকলেই।
দেশসেবা থেকে রাজনীতির অন্দরমহল: কে ছিলেন এই চন্দ্রনাথ?
চন্দ্রনাথ রথের পরিচয় কেবল বিরোধী দলনেতার আপ্তসহায়ক হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর জীবন ছিল এক শৃঙ্খলাবদ্ধ সৈনিকের।
বায়ুসেনায় ১৫ বছর: ২০০৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর ভারতীয় বায়ুসেনায় (Indian Air Force) অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন চন্দ্রনাথ।
কর্পোরেট কেরিয়ার: বায়ুসেনা থেকে স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার পর তিনি একটি নামী কর্পোরেট সংস্থায় উচ্চপদে কর্মরত ছিলেন।
শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গী: গত কয়েক বছর ধরে তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে কাজ করছিলেন। মূলত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল।
শেষ যাত্রার সেই বিকেল
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গতকাল অর্থাৎ বুধবার বিকেলেই বাড়ি থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ। কিন্তু কে জানত, সেই যাত্রাই তাঁর জীবনের শেষ যাত্রা হবে! মধ্যগ্রামের কাছে ঘাতকদের গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে যায় তাঁর শরীর।
চন্দ্রনাথের মায়ের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। যেখানে বিজেপি নেতৃত্ব এই খুনের বদলে খুনের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে এবং কঠোরতম শাস্তির দাবি তুলছে, সেখানে একজন জননী হয়ে তিনি যেভাবে খুনিদের মায়ের কষ্টের কথা ভেবেছেন, তা কার্যত বিরল। আপাতত পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, তবে মায়ের এই ‘ক্ষমা’ কি খুনিদের বিবেকে নাড়া দেবে? প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে।





