পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের অন্যতম স্তম্ভ শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গী তথা আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যু কেবল একটি আইনি মামলা নয়, বরং তা এখন এক গভীর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত শোকের নাম। চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর ভেঙে পড়া শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম প্রতিক্রিয়া এবং ময়নাতদন্তের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
শুভেন্দুর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া একনিষ্ঠ অনুগামী এবং বিশ্বস্ত সহায়কের অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রতিক্রিয়ায় তিনি স্পষ্ট বলেন, “চন্দ্রনাথ কেবল আমার আপ্ত সহায়ক ছিল না, ও ছিল আমার পরিবারের সদস্যের মতো। এটি আমার ব্যক্তিগত অপূরণীয় ক্ষতি (Personal Loss)। যে বা যারা এই নৃশংস কাজ করেছে, তাদের রেয়াত করা হবে না।” শুভেন্দুর এই ‘ব্যক্তিগত লস’ শব্দবন্ধটি বুঝিয়ে দিচ্ছে, নতুন জমানায় তাঁর অত্যন্ত কাছের একজনকে হারিয়ে কতটা বিপন্নবোধ করছেন তিনি।
ময়নাতদন্তে শিউরে ওঠার মতো তথ্য অন্যদিকে, এদিনই চন্দ্রনাথের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। যা দেখে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও স্তম্ভিত। রিপোর্ট অনুযায়ী:
চন্দ্রনাথের শরীরে তিনটি গুলির ক্ষত পাওয়া গিয়েছে।
একটি বুলেট সরাসরি তাঁর হৃৎপিণ্ড এফোঁড়-ওফোঁড় করে শরীরের অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।
অত্যন্ত কাছ থেকে এবং পেশাদার নিশানায় এই গুলি চালানো হয়েছে, যাতে এক লহমায় মৃত্যু নিশ্চিত হয়।
বুলেটের গতিপথ বলছে, চন্দ্রনাথ পালানোর চেষ্টা করলেও ঘাতকরা তাঁকে বিন্দুমাত্র সময় দেয়নি।
পেশাদার ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত যেভাবে হৃৎপিণ্ড লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট নিশানায় অপারেশন চালানো হয়েছে, তাতে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান—এটি কোনও পেশাদার ‘সুপারি কিলার’-এর কাজ। শুভেন্দু অধিকারীর মতো হেভিওয়েট নেতার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে থাকা একজনকে এভাবে সরিয়ে দেওয়ার নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে লালবাজার।
পরবর্তী পদক্ষেপ শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থা বা উচ্চপর্যায়ের তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশের একটি বিশেষ দল চন্দ্রনাথের শেষ সাত দিনের কল রেকর্ড এবং তাঁর ‘রেইকি’ করা ঘাতকদের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
তিলোত্তমার বুকে এক বিশ্বস্ত সৈনিকের রক্তে ভেজা এই ঘটনাটি কি নতুন বিজেপি সরকারের জন্য বড় কোনও চ্যালেঞ্জের সূচনা? উত্তর খুঁজছে গোটা রাজ্য।





