আসানসোলের রাজনৈতিক মানচিত্রে একসময় যাঁর দাপটে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খেত, সেই উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার কি এবার সূর্যাস্তের মুখে? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কুলটি কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিট না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন এই প্রবীণ নেতা। পরপর তিনবার (২০০৬, ২০১১ এবং ২০১৬) এই আসন থেকে জয়ী হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। কিন্তু এবারও দলের ভরসা না মেলায় কার্যত মুষড়ে পড়েছেন তিনি।
টিকিট না পাওয়ার খবর চাউর হতেই উজ্জ্বলবাবু সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন। চোখের জল সামলে তিনি বলেন, “দলের জন্য সারাজীবন লড়াই করলাম, কিন্তু আজ আমার গুরুত্ব ফুরিয়ে গিয়েছে। আমার খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যে আসানসোল-কুলটি শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২১-এর নির্বাচনেও তিনি টিকিট পাননি, তবে আশা ছিল এবার হয়তো দল তাঁর অভিজ্ঞতার সম্মান দেবে। কিন্তু প্রার্থী তালিকায় ব্রাত্য থেকে যাওয়ায় ব্রাত্যই থেকে গেলেন উজ্জ্বল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল এবার ‘নবজোয়ার’ এবং নতুন প্রজন্মের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। যার ফলে অনেক প্রবীণ ও অভিজ্ঞ মুখকে সরিয়ে তরুণ তুর্কিদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের মতো নেতার এই আক্ষেপ কি তৃণমূলের অন্দরে কোনো বিদ্রোহের ইঙ্গিত, নাকি রাজনীতির ময়দান থেকে তাঁর চিরতরে বিদায়—তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কর্মী-সমর্থকদের একাংশ এখনও তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমাচ্ছেন, কিন্তু ‘দাদা’র গলায় এখন শুধুই অবসরের সুর।