‘আমাদের পুনর্বাসন দিক সরকার’! সরকারি পাট্টার জমিতে রেলের নোটিশ ঘিরে মগরায় তীব্র আতঙ্ক

হুগলির মগরা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের কোলা গ্রামে এখন আতঙ্কের প্রহর গুনছেন কয়েকশো পরিবার। ব্যান্ডেল থার্মাল পাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় রেললাইনের দু-পাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের হাতে পূর্ব রেলের উচ্ছেদ নোটিশ পৌঁছাতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রেলের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১১ জুনের মধ্যে বাসিন্দাদের ভিটেমাটি খালি করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন উঠছে—সরকারি দেওয়া পাট্টার জমিতে কীভাবে রেল উচ্ছেদের নোটিশ দিতে পারে?

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২২ বছর আগে তৎকালীন বাম সরকার ভূমি অধিগ্রহণ আইনের মাধ্যমে এই জমি অধিগ্রহণ করে গ্রামবাসীদের পাট্টা দিয়েছিল। শুধু সাধারণ মানুষই নয়, এই জমিতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসও রয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে, সেই অফিসগুলিকে নোটিশের আওতামুক্ত রেখে শুধুমাত্র গ্রামবাসীদের বাড়িগুলিকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৭০টিরও বেশি পরিবারকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জলের মতো সমস্ত নাগরিক পরিষেবা রয়েছে।

মগরা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিকের দাবি, পূর্ব রেলের এই পদক্ষেপে বড়সড় ভুল রয়েছে। ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায়, ১৮৯০ সালে তৈরি ‘বেঙ্গল প্রভিন্সিয়াল রেলওয়ে’ (BPR) ছিল সম্পূর্ণ বাঙালি মালিকানাধীন ও পরিচালিত একটি বেসরকারি রেল সংস্থা, যা তারকেশ্বর-মগরা রুটে চলত। ১৯৫৬ সালে এই পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পর জমিটি নানাভাবে হস্তান্তরিত হয়। রঘুনাথ বাবুর মতে, ২০০৪ সালে রাজ্য সরকার ভূমি অধিগ্রহণ আইনের আওতায় এই জমি গ্রামবাসীদের পাট্টা দেয় এবং গ্রামবাসীরা নিয়মিত তার খাজনাও প্রদান করেন। তাহলে রেল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ কেন এই জমি নিজেদের বলে দাবি করছে, তা বোধগম্য নয়।

বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তাঁরা ১৯৬৮ সাল থেকে এই এলাকায় বসবাস করছেন। বৃদ্ধ লক্ষ্মীনারায়ণ রায় বলেন, “বামফ্রন্ট সরকারের আমলে ২০০৪ সালে আমরা পাট্টা পেয়েছি। নিয়মিত সরকারি কর ও বিল মেটাচ্ছি। এখন রেল হঠাৎ বলছে জায়গা তাদের। আমাদের কাছে সরকারি দলিল রয়েছে। আমরা যাব কোথায়?” একই আক্ষেপ ঝরে পড়েছে স্থানীয় গৃহবধূ রীতা দত্তের গলায়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার যদি উচ্ছেদ করতেই চায়, তবে পুনর্বাসনের দায়িত্ব তাদেরই নিতে হবে। আমরা উদ্বাস্তু হতে চাই না।

এই পরিস্থিতিতে মগরা ব্লকের আধিকারিকদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। এলাকাবাসীর দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ বহুবার পঞ্চায়েতের সঙ্গে বৈঠক করলেও তাদের মালিকানার কোনো সঠিক প্রমাণ দাখিল করতে পারেনি। জমিটি আসলে কার, তা প্রমাণ করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। গোটা ঘটনায় আতঙ্কিত মানুষজন বিধায়কের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপে এই সমস্যার সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন। এখন দেখার, প্রশাসন এই উচ্ছেদের নোটিশ নিয়ে কী অবস্থান গ্রহণ করে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy