‘আমাকে ঝোকানোর জন্য সাতবার জন্ম নিতে হবে!’ সিআইডি নোটিসের পর গর্জে উঠলেন অভিষেক

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী রাজনৈতিক আবহে রাজ্য রাজনীতিতে ফের একবার উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। দলীয় কর্মীদের বাড়িতে দেখা করে ফেরার পথে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছল সিআইডি (CID)-র প্রতিনিধি দল। সোমবার তাঁকে ভবানীভবনে তলব করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।

কী ঘটনা ঘটল? শনিবার দুপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়িতে পৌঁছায় সিআইডির ৫ সদস্যের একটি দল। ওই সময় অভিষেক বেলেঘাটায় ছিলেন। পরে দুপুর ২টা ২২ মিনিট নাগাদ তিনি কালীঘাটের বাড়িতে পৌঁছালে সিআইডির অফিসাররা সেখানে যান। পৌনে ৩টে নাগাদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের হাতে সিআইডির নোটিস গ্রহণ করেন। মূলত বিধানসভার সই সংক্রান্ত একটি তদন্তের সূত্রেই এই তলব বলে জানা গেছে।

অভিষেকের পাল্টা চ্যালেঞ্জ: তৃণমূল নেতা নিজের বাড়িতে সিআইডির উপস্থিতিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিজেপি মনে করছে ইডি, সিবিআই ব্যর্থ হওয়ায় এখন রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ বা সিআইডি দিয়ে আমাকে মাথানত করাবে। কিন্তু আমি অন্য ধাতুতে গড়া। আমাকে ঝোকানোর জন্য সাতবার জন্ম নিতে হবে। ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করে নিয়ে যাক!”

সুকান্ত মজুমদারের তোপ: অভিষেকের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “বিধায়কদের সই জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের খাতিরে দলের শীর্ষ নেতাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা সিআইডির কাজ। উনি সিআইডি অফিসারদের কতক্ষণ বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন! অভিষেকের এখনও অনেক অহংকার, তিনি ভুলে গেছেন গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে। ফলতায় ডাবল ডোজে মানুষ ওঁদের দমিয়েছে, তাই অহমিকা ছেড়ে মাটিতে নামুন।”

রাজনৈতিক পরিস্থিতি: তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের এই বাকযুদ্ধ রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। সোমবার বেলা ১২টায় ভবানীভবনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাজিরা দেওয়া নিয়ে এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy