২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের লড়াই যত এগিয়ে আসছে, বাগযুদ্ধ ততই চরম সীমায় পৌঁছাচ্ছে। আজ সন্ধ্যায় নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সবথেকে মারাত্মক অভিযোগটি তুললেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে দিয়ে ধরপাকড় এবং রেইড করিয়ে আসলে তাঁকে “খুন করার চক্রান্ত” করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলি:
রেইড নিয়ে তোপ: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও প্রার্থীদের মনোবল ভাঙতে ইচ্ছাকৃতভাবে ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI)-কে লেলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কথায়, “সকাল হলেই বিজেপি এজেন্সি পাঠিয়ে দিচ্ছে। ভয় দেখিয়ে কি ভোট পাওয়া যায়?”
প্রাণনাশের আশঙ্কা: এদিনের সবথেকে চাঞ্চল্যকর দাবি ছিল নিজের নিরাপত্তা নিয়ে। মমতা বলেন, “আমাকে রাজনৈতিকভাবে হারাতে পারবে না জেনেই এখন আমাকে সরানোর চক্রান্ত চলছে। আমাকে খুন করার নীল নকশা তৈরি হয়েছে।” তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, এ ধরণের হুমকিতে তিনি ভীত নন।
বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ: মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “আপনারা যত রেইড করবেন, মানুষ তত বেশি করে আমাদের পাশে দাঁড়াবে। এজেন্সি দিয়ে ভোট লুট করতে দেব না।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: ২০২৬ নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে লড়াই এখন হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে। গত কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির তল্লাশি এবং ধরপাকড় নিয়ে শাসক দল এমনিতেই অস্বস্তিতে ছিল। আজ মমতার এই “খুন করার চক্রান্ত”-এর অভিযোগ সেই রাজনৈতিক লড়াইকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেল।
অন্যান্য নির্বাচনী খবর একনজরে
শুভেন্দু বনাম পবিত্র: আজই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে “ভাড়া করা প্রার্থী” বলে কটাক্ষ করেছেন।
মোদীর ঝালমুড়ি: ঝাড়গ্রামে নির্বাচনী প্রচারের মাঝে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্যও আজ খবরের শিরোনামে।
হামলার অভিযোগ: গোসাবায় বিজেপির প্রচারে যাওয়া অটোতে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
উপসংহার: মুখ্যমন্ত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” এবং “সহানুভূতির রাজনীতি” বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত দাবির ওপর কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই দেখার।





