পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র জন্য অধীর আগ্রহের অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে বারো পাতার নতুন আবেদনপত্র। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ফর্মটি উন্মোচন করার পাশাপাশি জানিয়েছেন, এখন থেকেই সংশ্লিষ্ট সরকারি পোর্টাল থেকে এটি ডাউনলোড করা সম্ভব। শুক্রবার থেকেই রাজ্যজুড়ে এই ফর্ম পূরণ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফর্মের প্রতিটি তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আবেদনকারীরা যদি ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে কোনো সমস্যার সম্মুখীন হন অথবা কোনো অংশ বুঝতে না পারেন, তবে তাঁদের স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিস বা পুরসভার প্রশাসনিক দপ্তরে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আগামী ৩০ দিন ধরে একটি নিবিড় ‘ডোর-টু-ডোর’ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া চালানো হবে। সরকারিভাবে এখনও কোনো হেল্পলাইন বা টোল-ফ্রি নম্বর চালু না হলেও, স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকরাই আবেদনকারীদের যাবতীয় জিজ্ঞাসার সমাধান দেবেন।
আবেদনপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য:
সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি আবেদনকারীকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তথ্য প্রদান করতে হবে। ফর্ম পূরণের সময় মূলত তিনটি স্তরে তথ্য চাওয়া হয়েছে:
১. ব্যক্তিগত ও ব্যাংকিং তথ্য: আবেদনকারীর নাম, পরিচয় ও [আধার নম্বর] বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং আইএফএসসি (IFSC) কোড প্রদান করতে হবে। রেশন কার্ডের বিস্তারিত তথ্যও ফর্মে উল্লেখ করা জরুরি।
২. পরিবার ও অর্থনৈতিক অবস্থা: পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance) সংক্রান্ত নথি এবং কর্মরত সদস্যদের পেশাগত তথ্য জানাতে হবে। আর্থ-সামাজিক অবস্থা যাচাইয়ের জন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে, যেমন: পরিবারের মালিকানায় চারচাকা গাড়ি আছে কি না, পাকা বাড়ি আছে কি না, থাকলে তার সংখ্যা কত ইত্যাদি। পরিবারের মোট বার্ষিক আয় এবং বর্তমান কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে কি না, তা-ও স্বচ্ছভাবে জানাতে হবে।
৩. নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য: সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের অধীনে আবেদনকারী কোনো সার্টিফিকেট পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন কি না, বা সিআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালে কোনো মামলা বিচারাধীন আছে কি না—সেই তথ্যটিও সরকারকে প্রদান করতে হবে।
প্রশাসনিক কর্তারা জানিয়েছেন, ফর্মের প্রতিটি তথ্য যাচাই করার পর তবেই সেই আবেদন গ্রাহ্য করা হবে। তাই অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য দেওয়া ফর্ম বাতিল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। রাজ্যের সমস্ত যোগ্য উপভোক্তাদের কাছে এই ফর্ম সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীদের সমস্ত নথিপত্র প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন, যাতে ডোর-টু-ডোর ভেরিফিকেশনের সময় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঠিক তথ্য প্রদান করা যায়।





