আবাসনের ভেতরেই এবার ভোটদান! ‘ছাপ্পা’ রুখতে ৮ দফার কড়া গাইডলাইন কমিশনের, কী কী থাকছে?

শহরের হাইরাইজ বা বড় আবাসনগুলোর বাসিন্দাদের ভোটদানে অনীহা কাটাতে এক বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। এবার শহরের একাধিক বড় আবাসনের ভেতরেই তৈরি করা হচ্ছে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা পোলিং বুথ। তবে একই সঙ্গে ‘ছাপ্পা ভোট’ বা কারচুপি রুখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন।

কেন এই বিশেষ ব্যবস্থা? সাধারণত দেখা যায়, বড় আবাসনের বাসিন্দারা ভিড় বা দূরত্বের কারণে ভোট দিতে বিমুখ হন। এই ‘শহুরে উদাসীনতা’ কাটাতে এবং ভোটদানের হার বাড়াতেই এই উদ্যোগ। তবে আবাসনের ভেতরে বুথ মানেই সেখানে কোনো বিশেষ সুবিধা বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো যাবে না—তাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের ৮ দফা নির্দেশিকার মূল পয়েন্টগুলি: ১. বহিরাগত প্রবেশ নিষেধ: ভোটগ্রহণের দিন আবাসনের বাসিন্দা এবং ভোটার ছাড়া অন্য কোনো বহিরাগত বা অননুমোদিত ব্যক্তি বুথের এলাকায় থাকতে পারবেন না। ২. কড়া সিসিটিভি নজরদারি: প্রতিটি বুথে লাইভ ওয়েবকাস্টিং এবং সিসিটিভি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৩. নিরপেক্ষ পোলিং এজেন্ট: আবাসনের ভোটার নন, এমন ব্যক্তিদেরও এজেন্ট হিসেবে বসার অনুমতি দেওয়া হতে পারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে। ৪. সাধারণের জন্য উন্মুক্ত: যদি কোনো আবাসনের বুথ বাইরের সাধারণ ভোটারদের জন্য নির্ধারিত হয়, তবে আবাসন কর্তৃপক্ষ কাউকে প্রবেশে বাধা দিতে পারবে না। ৫. প্রচারের কড়াকড়ি: আবাসনের ভেতরে কোনো নির্দিষ্ট দল বা প্রার্থীর হয়ে প্রচার সামগ্রী লাগানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ৬. নিরাপত্তা বাহিনী: কেন্দ্রীয় বাহিনী বা রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টিম এই বুথগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। ৭. ছাপ্পা রুখতে ব্যবস্থা: ভোটার আইডির সাথে বায়োমেট্রিক বা কঠোরভাবে পরিচয় যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৮. কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা: কোনো অশান্তি বা বেনিয়ম হলে সরাসরি আবাসন কমিটিকেও জবাবদিহি করতে হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের এই সাহসী পদক্ষেপ যেমন ভোটারদের সুবিধা দেবে, তেমনই কড়া নিয়মের ঘেরাটোপে ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচন নিশ্চিত করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy