এক নিমেষে অনিশ্চিত হয়ে পড়ল ২৫০ জন কর্মীর ভবিষ্যৎ। ভারতের বাজার থেকে কার্যত পাততাড়ি গোটাল মার্কিন রিয়েল এস্টেট টেকনোলজি কোম্পানি ‘ওপেনডোর’ (Opendoor)। বুধবার সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, ভারতে তাদের সমস্ত কাজকর্ম স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। যার ফলে রাতারাতি কাজ হারালেন দেশের ২৫০ জন দক্ষ কর্মী।
সংস্থার সিইও কাজ নেজাতিয়ান (Kaz Nejatian) বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ওপেনডোরের মূল ব্যবসায়িক লক্ষ্য যেহেতু আমেরিকার বাজারকে কেন্দ্র করে, তাই অপারেশনাল কাজগুলো আমেরিকাতেই সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন। এই ‘বিজনেস ট্রান্সফরমেশন স্ট্র্যাটেজি’-এর অংশ হিসেবেই ভারত থেকে অফিস গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। গত কয়েক মাস ধরেই কোম্পানির কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছিল, যার চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবেই আজকের এই চরম ঘোষণা।
কেন হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত? কোম্পানির তরফে জানানো হয়েছে, ওপেনডোরের গ্রাহক মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা। গ্রাহকদের আরও নিবিড়ভাবে পরিষেবা দিতে এবং অপারেশনাল দক্ষতার খাতিরেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত বিবর্তন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI)-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের ফলে ভারতীয় টিমের প্রয়োজনীয়তা কমেছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন সিইও। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতীয় কর্মীদের পারফরম্যান্স বা দক্ষতার কোনো ঘাটতি নেই। বরং, তিনি ভারতীয় কর্মীদের পেশাদারিত্ব ও অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, ওপেনডোর ভারতে একটি বিশাল টিম গড়ে তুলেছিল। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে কর্মীদের নিয়োগ করা হলেও, বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ফলে মানবশক্তির চাহিদা হ্রাস পেয়েছে। সংস্থার সিইও কাজ নেজাতিয়ান নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আজ আমাদের ভারতীয় সহকর্মীদের কাছ থেকে বিদায় নিতে হচ্ছে। আমাদের গ্রাহকরা আমেরিকায়, তাই আমাদের অপারেশনাল কাজও সেখানেই হওয়া উচিত।”
এই ঘটনার ফলে প্রযুক্তি ও রিয়েল এস্টেট খাতের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মার্কিন টেক কোম্পানির এই ধরণের হঠকারী সিদ্ধান্ত ভারতীয় কর্মীদের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবেই সামনে এসেছে। তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের পরবর্তী কর্মসংস্থান বা কোনো আর্থিক প্যাকেজ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই-এর যুগে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে, যেখানে বিদেশের সংস্থাগুলো তাদের অপারেশনাল খরচ কমাতে ভারত বা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে পারে।





