পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ নিয়ে এক বড়সড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আবহে প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি পোর্টাল ও সাম্প্রতিক নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো মহিলার কাছে আধার কার্ড বা স্বাস্থ্য সাথী কার্ড না থাকলেও তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আধার বা স্বাস্থ্য সাথী ছাড়া কীভাবে আবেদন করবেন? সাধারণত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ফরমে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু অনেক মহিলার কার্ড না থাকায় তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন নিয়মে যা বলা হয়েছে:
-
আন্ডারটেকিং (Undertaking): যদি আবেদনকারীর কাছে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড বা আধার কার্ড না থাকে, তবে তাঁকে একটি ঘোষণাপত্র বা ‘আন্ডারটেকিং’ জমা দিতে হবে। সেখানে জানাতে হবে যে তিনি কার্ডের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু এখনও পাননি।
-
বিকল্প নথি: আধার কার্ডের বদলে ভোটার আইডি কার্ড (Voter ID), রেশন কার্ড বা প্যান কার্ডের মতো সরকারি পরিচয়পত্র দিয়ে প্রাথমিক আবেদন গ্রহণ করা হবে।
-
দুয়ারে সরকার: এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আপনাকে নিকটবর্তী ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পে গিয়ে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে। সেখানে আধিকারিকরা আপনার পরিচয় যাচাই করে আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন।
ভাতার পরিমাণ কত? বর্তমানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পান মাসে ১০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) শ্রেণির মহিলারা পান মাসে ১২০০ টাকা। নির্বাচনের আগে এই নিয়ম শিথিল করার ফলে লক্ষ লক্ষ নতুন মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসতে পারবেন বলে মনে করছে নবান্ন।
কেন এই নিয়ম বদল? নবান্ন সূত্রে খবর, বহু জেলায় যান্ত্রিক ত্রুটি বা আধারের বায়োমেট্রিক সমস্যার কারণে মহিলাদের টাকা ঢুকতে সমস্যা হচ্ছিল। নির্বাচনের মুখে যাতে কোনো যোগ্য উপভোক্তা প্রকল্পের বাইরে না থাকেন, তাই নথির কড়াকড়ি কিছুটা কমানো হয়েছে।