বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং আদালতের গরিমা রক্ষায় এবার নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান নিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত। একটি মামলার রায় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে খোদ বিচারপতির ভাইকেই ফোন করার দুঃসাহস দেখিয়েছেন এক ব্যক্তি! বুধবার এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়েন প্রধান বিচারপতি। ভরা এজলাসে তাঁর প্রশ্ন, “আদালতের রায় নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরাসরি বিচারপতির পরিবারকে ফোন করা হচ্ছে? কেন একে আদালত অবমাননার মামলা হিসেবে গণ্য করা হবে না?” প্রধান বিচারপতির এই কড়া বার্তা বর্তমানে দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও সিজেআই-এর প্রতিক্রিয়া: একটি মেডিক্যাল অ্যাডমিশন সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছিল প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে। শুনানির এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন যে, ওই মামলার রায় হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি বিচারপতির ভাইকে ফোন করে রায় নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলেন এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। এই ঘটনাকে বিচারব্যবস্থার ওপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে দেখছে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি এদিন বলেন, “কেউ যদি মনে করেন বিচারপতির আত্মীয়কে ফোন করে রায় প্রভাবিত করা যাবে বা রায় নিয়ে কৈফিয়ত চাওয়া যাবে, তবে তিনি ভুল স্বর্গে বাস করছেন। বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা নিয়ে আমরা কোনো আপস করব না।”
আদালত অবমাননার হুঁশিয়ারি: অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম সরাসরি প্রকাশ্যে না আনলেও, প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার মামলা (Contempt of Court) শুরু করা হবে না? বিচারপতির কথায়, “আইন সবার জন্য সমান। প্রভাবশালী তকমা ব্যবহার করে বিচারপতির পরিবারের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা ওই ব্যক্তিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর কথা ভাবছি।”
বিচারব্যবস্থার সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ: সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া অবস্থান ভবিষ্যতে এই ধরনের অনভিপ্রেত ঘটনা রুখতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। মেডিক্যাল এন্ট্রান্স বা ভর্তির মতো সংবেদনশীল মামলায় যেখানে হাজার হাজার পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে, সেখানে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপ বা ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে চাপ তৈরির চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ২০২৬-এর এই ঐতিহাসিক শুনানিতে সিজেআই সূর্যকান্তের মন্তব্য আবারও প্রমাণ করল যে, ভারতীয় বিচারব্যবস্থা যেকোনো চাপের উর্ধ্বে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কী পদক্ষেপ নেয়।