পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা নিয়ে চূড়ান্ত কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ, ১৫ মার্চ ২০২৬, রবিবার বিকেলেই নির্বাচন কমিশন দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটের দিনক্ষণ জানাতে পারে। রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ভোট কি আগের মতোই লম্বা দফায় হবে, নাকি দফার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে? বিরোধী দলগুলি যেমন পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে অবাধ ভোটের দাবি জানাচ্ছে, শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি দফার সংখ্যা কমিয়ে আনা হোক যাতে সাধারণ মানুষের অসুবিধা না হয়। আজ বিকেলেই এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটতে চলেছে।
ভোটের ঘোষণার ঠিক আগে শনিবার কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় বড়সড় রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেডের সভার উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূল সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি চরমে পৌঁছালে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের তির বিজেপি কর্মীদের দিকে। এই ঘটনায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ। ভাঙা হয় একাধিক বাসের কাঁচ, আহত হন বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষ-সহ দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন।
লালবাজার সূত্রে খবর, গিরিশ পার্কের ঘটনায় ইতিমধ্যেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই বিজেপি কর্মী বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই উত্তপ্ত আবহে নির্বাচন কমিশনের আজকের ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, গত কয়েক ঘণ্টার এই অশান্তি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ভোট ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা কতটা বাড়তে চলেছে। এখন দেখার, কমিশন শান্তিতে ভোট করানোর জন্য বাংলাকে কত দফায় ভাগ করে।