২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে বাংলায় পা দিয়েই মেরুকরণের রাজনীতিতে শান দিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় নেতা নীতিন নবীন। বুধবার দুর্গাপুরের এক সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সরাসরি ‘হিন্দু বিরোধী’ তকমা দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি। তাঁর দাবি, এই রাজ্যে আজান পড়ার সময় কোনও সমস্যা হয় না, কিন্তু হিন্দুদের শক্তির আরাধনা তথা দুর্গাপুজোর সময় পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়।
নীতিন নবীন বলেন, “শক্তির আরাধনা দুর্গাপুজো এই বাংলা থেকেই গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। অথচ এই সরকার সেই মায়ের পুজো রোখার চেষ্টা করে। কোনও হিন্দু এই অপমান বরদাস্ত করবে না। আমাদের পরম্পরা ও সংস্কৃতি রক্ষায় আমরা যে কোনও আত্মত্যাগ বা কুরবানি দিতে প্রস্তুত।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, পরিকল্পিতভাবে বাংলার ভৌগোলিক ও জনবিন্যাসগত অবস্থান বদলানোর চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক দল।
তামিলনাড়ুর প্রসঙ্গ ও ইন্ডি জোটকে আক্রমণ এদিন কেবল বাংলা নয়, তামিলনাড়ুর একটি পুজোর উদাহরণ টেনে আনেন নীতিন। তিনি দাবি করেন, সেখানে আজানের কারণ দেখিয়ে পুজোতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। নীতিনের কথায়, “তামিলনাড়ুর সরকার ইন্ডি জোটের অংশ। যখন আদালত পুজোর অনুমতি দিল, তখন তৃণমূল ও কংগ্রেসের নেতারা একজোট হয়ে সেই বিচারপতিকে সরানোর জন্য ইমপিচমেন্টের পরিকল্পনা করল। এরা আসলে সনাতন ধর্মকেই ধ্বংস করতে চায়।”
বিজেপি নেতৃত্বের এই অভিযোগের পাল্টা রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালে ইউনেস্কো কলকাতার দুর্গাপুজোকে বিশেষ স্বীকৃতি দিয়েছে এবং রাজ্য সরকার মহাসমারোহে প্রতি বছর দুর্গাপুজো কার্নিভালের আয়োজন করে। তা সত্ত্বেও নীতিন নবীনের এই ধর্মীয় বিভাজনের তাস লোকসভা ও আগামী বিধানসভা ভোটের আগে হিন্দু ভোটব্যাঙ্ক সংহত করার কৌশলী চাল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।